খালেদার জামিন বাড়লো সাত দিন

আপডেট: 03:29:53 12/07/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি শুরুর পর এ মামলায় তার জামিনের মেয়াদ সাত দিন বাড়িয়েছে আদালত।
আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে আপিল শুনানি শেষ করার জন্য আগামী এক সপ্তাহে শুনানির দিনক্ষণও ঠিক করে দিয়েছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ শুনানি শুরু হয়।
প্রথম দিন খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান ও এ জে মোহাম্মদ আলী মামলার পেপারবুক থেকে এফআইআর ও চার্জশিট পড়ে শোনান । পরে  আদালত রোববার বেলা দুইটা পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করে।
খালেদার আইনজীবীদের মধ্যে মওদুদ আহমদ, জয়নুল আবেদীন ও মাহাবুব উদ্দিন খোকন এদিন শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
শুনানির পর মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী রবি থেকে বৃহস্পতিবার কখন এ মামলার আপিল শুনানি হবে তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে হাই কোর্ট। 
রবি ও সোমবার শুনানি শুরু হবে বেলা দুইটায়। মঙ্গল ও বুধবার পুরো দিন আদালত এ মামলা শুনবে। বৃহস্পতিবার আবার বেলা দুইটায় শুনানি হবে।
আর খালেদা জিয়াকে এর আগে হাই কোর্ট চার মাসের যে জামিন দিয়েছিল, তার মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হয়ে যাওয়ায় আদালত এদিন জামিনের মেয়াদ ১৯ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে মওদুদ বলেন, “১৯ জুলাই আবার আমরা জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করব। এটার ব্যপারে কোনো অসুবিধা হবে না বলে মনে করি।”
বিচারিক আদালতের এ মামলার রায়ের বিরুদ্ধে পরে হাই কোর্টে আপিল এবং জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। এছাড়া মামলার অপর দুই আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদও আপিল করেন। অন্যদিকে খালেদার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আবেদন করে দুদক।
বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগেও তা বহাল থাকে।
সেই সঙ্গে খালেদা জিয়ার করা আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাই কোর্টের এ বেঞ্চকে নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ।
আপলি নিষ্পত্তির  জন্য ওই সময় বাড়াতে আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এ বিষয়ে শুনানি করে আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার বলেছে, আপিলের শুনানি ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ না হলে ওই রিভিউ আবেদন বিবেচনা করা হবে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ খালেদা জিয়ার করা রিভিউ আবেদন ‘স্ট্যান্ডওভার’ রেখে এ আদেশ দেয়। 
আদেশে আপিল বিভাগ বলেছে, “৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাই কোর্টে এই আপিল শুনানির যে আদেশ রয়েছে সে অনুযায়ী আপনারা আপিল শুনানি শুরু করেন। তবে এই সময়ের মধ্যে শুনানি শেষ করতে না পারলে আপিল বিভাগ বিষয়টি বিবেচনা করবে।”
আপিল বিভাগের ওই আদেশের পর হাই কোর্টে খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানি শুরু হয়।
মওদুদ বলেন, তাদের রিভিউ আবেদনটি আপিল বিভাগ খারিজ করেনি, বিবেচনাধীন রেখেছে। আর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল শুনানি শেষ না হলে তখন যেহেতু সময়ের আবেদন আপিল বিভাগ বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে, সেহেতু আপিল নিষ্পত্তি করতে সময়ের বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না।
“এখন ৩১ জুলাইয়ের পরেও শুনানি চলতে পারে, সে সুযোগটা দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সম্পূরক পেপারবুক চেয়ে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার অন্যতম আইজীবী এ কে এম এহসানুর রমান।
তিনি বলেন, “মামলা সংশ্লিষ্ট আট ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নতিপত্রের সংযুক্তি চেয়ে সম্পূরক পেপারবুকের আবেদন করা হয়েছে। আদালতে সেটি মেনশন করা হলে আদালত বলেছে রোববার এ আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে।”
খালেদা জিয়া আপিল ছাড়াও এ মামলায় দশ বছরের কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দুই আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল এবং শরফুদ্দিন আহমদের আপিল এবং খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদকের আবেদন (রিভিশন) এ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় আছে।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন