খুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রী এমএম কলেজছাত্রীর অভিযোগ

আপডেট: 01:53:59 27/12/2017



img

খুলনা অফিস : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ওয়াহিদুজ্জানের বিরুদ্ধে দশ লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও মানসিক-শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন স্ত্রী মোছা. জান্নাত আরা ফেরদৌস।
মঙ্গলবার খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। জান্নাত আরা ফেরদৌস যশোর সরকারি এম এম কলেজের দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালের ২৭ মার্চ খুবির গণিত ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় আমাকে তোলা হয়। সেখানে মাস চারেক ভালোভাবে সংসার চলে। তারপর শুরু হয় অশান্তি। তার রুক্ষ ও কর্কশ ব্যবহার, কৃপণতা এবং সব ব্যাপারে লুকোছাপা ভাব সত্ত্বেও আমি মানিয়ে চলার চেষ্টা করি। এ অবস্থায় দুই মাস পর স্বামীর ছোট ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে তার গ্রামের বাড়ি গাজিপুরের শ্রীপুরে নিয়ে যায় আমাকে। শ্বশুরালয়ে গিয়ে আমি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হই। শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের অন্যরাও আমাকে নানা রকম কটু কথা বলতে থাকে। এরপর আমার স্বামী আমাকে আমার বাপের বাড়ি যশোরে রেখে খুলনায় যায়।’
‘তারপর শুরু হয় তার মুখোশ উন্মোচনের পালা। অনেক অনুরোধের পর আমাকে খুলনায় নিয়ে আসে। কিন্তু অহেতুক কর্কশ ব্যবহার করতে থাকে। সাংসারিক প্রয়োজনে টাকা চাইলে তাকে তালাক দিতে বলে। আমার সাথে সংসার করতেও অনীহা প্রকাশ করে। এসব ঘটনা বিয়ের ঘটক অধ্যাপক শরীফ উদ্দীনকে জানালে তিনি আমাকে চুপ থাকার উপদেশ দেন। ইতিমধ্যে আমি সন্তানসম্ভবা হই। এ অবস্থায় সে আমাকে বাপের বাড়িতে চলে যেতে বলে। আর শ্বশুরবাড়ির লোকজন গাজীপুর যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। আমি যেতে অস্বীকৃতি জানালে সে আমার ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালায়। এরপর ঈদ উপলক্ষে আমি বাবার বাড়িতে চলে যাই। ঈদ শেষে ফিরে আসার জন্য যোগাযোগ করা হলে সে এড়িয়ে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি ফিরে এলে সে সেপারেশনের সুবিধার্থে বাচ্চা নষ্ট করার কথা বলে। কয়েকবার বাচ্চা নষ্ট করার জন্যে আমাকে আঘাতও করে। বাজারের খরচ বন্ধ করে এবং কাজের মহিলাকে বিদায় করে সংসারের সব কাজ করতে বাধ্য করে।’
জান্নাত বলেন, ‘আমি বাসায় থাকা অবস্থায় সে এবং অধ্যাপক শরীফ কলগার্ল বাসায় এনে ফূর্তি করে। এ কারণে অধ্যাপক শরীফ ভার্সিটি থেকে চাকরিচ্যুত হয়। পরিস্থিতির এরকম পর্যায়ে বাবা-মা এসে আমাকে নিয়ে যান। এরপর সে আমার কোনো খোঁজ নিত না। সন্তান প্রসবের জন্য ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পর সে গেলেও পরে কোনো খোঁজ নিত না। কিছুদিন পর আমাকে সন্তানসহ গাজীপুরে নিয়ে একরকম আটকে রেখে নির্যাতন এবং যৌতুক দাবি করে। পরে আমার পরীক্ষার জন্য খুলনা আসি। কিন্তু এসে প্রচণ্ড নির্যাতনের শিকার হতে হয়। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার জন্য দশ লাখ টাকা দাবি করে আমার কাছে। অস্বীকৃতি জানালে সন্তানসহ আমাকে মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমি বাবার বাড়ি যেতে বাধ্য হই।’
‘পরে আমরা ভার্সিটিতে গিয়ে তার ডিসিপ্লিন প্রধানের কাছে অভিযোগ করলে সে একটি ভুয়া ডিভোর্স লেটার দেখায়। পরে আমরা আদালতে মামলা করি। কোর্টে ডিভোর্স প্রমাণ না করতে পারায় আদালত আমাকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সুরক্ষা দিয়েছে। সেটা বানচাল করতে সে জজকোর্টে রিভিশন করেছে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষক নামের এরকম মিথ্যাবাদী, অত্যাচারী ও পাপাচারীর মুখোশ উন্মোচিত হোক।’
স্বামীর অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জান্নাত সরকার, মানবাধিকার সংস্থা, মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন জান্নাত আরা ফেরদৌসের বড় বোন মাহফুজা খানম, ভাই হোজায়ফা আল মাহমুদ ও শিশু ছেলে জাবির জাওয়াদ।
অভিযোগের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জান্নাতের স্বামী খুবির গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘যৌতুক দাবি করার অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি কোনো নির্যাতনও করিনি। বরং আমার ওপর নির্যাতন হয়েছে। সে ব্যাপারে আমি গত বছরের ২১ অক্টোবর খুলনা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। এছাড়া গত ২০ মার্চ স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি।’