খুরা রোগে মরছে গরু, কর্তৃপক্ষের খোঁজ নেই

আপডেট: 03:18:49 03/04/2019



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরে গরুর খুরা রোগ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত এক মাসে অন্তত অর্ধশত গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আক্রান্ত হচ্ছে অনেক গরু। একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে অনেক খামারি বা গরু পালনকারী হচ্ছেন সর্বস্বান্ত। উপজেলাজুড়ে এমন পরিস্থিতি হলেও এই বিষয়ে কোনো খোঁজ রাখে না প্রাণিসম্পদ অফিস।
সময়মতো প্রতিষেধক প্রদান না করায় এবং প্রাণিসম্পদ অফিস প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা সেবা না দেওয়ায় গরু পালনকারীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ।
প্রাণিসম্পদ অফিসের দাবি, ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গরুর মৃত্যুর সংখ্যা এত বেশি নয়। বর্তমানে কোনো এলাকায় আক্রান্ত গরু রয়েছে বলেও তাদের জানা নেই। তাদের অফিসে মাত্র তিনটি গরুর মৃত্যুর তালিকা রয়েছে। তাছাড়া এই রোগের পর্যাপ্ত প্রতিষেধক তাদের কাছে নেই।
সরকারিভাবে চিকিৎসা না পাওয়ায় স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হচ্ছেন আক্রান্ত গরুর মালিকেরা। পল্লী চিকিৎসকদের অনেকেই নিম্নমানের প্রতিষেধক দিয়ে মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের স্মরণপুরে ফুরকান নামের এক খামারির সাতটি গরু গত ১৫-২০ দিন ধরে খুরা রোগে আক্রান্ত। তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়ে কোনো ফল পাচ্ছেন না। এই পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ অফিসের কোনো সহযোগিতা পাননি। এমনকি ওই ইউনিয়নে প্রাণিসম্পদ অফিসের কোনো প্রতিনিধি তার চোখে পড়েনি।
পট্টি গ্রামের আব্দুর রব ও শহিদুলের চারটি করে গরু খুরা রোগে আক্রান্ত। ওই গ্রামের ইসমাইল ও আনসার আলীর তিনটি গরুর অবস্থাও একই। এদের মধ্যে আনসারের একটি গরু ইতিমধ্যে মারা গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুর রহমান জানান, পট্টি গ্রামের রেজাউল ও মিলনের দুটি করে গরুর মধ্যে একটি খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, বাকিটি আক্রান্ত হয়েছে। একই গ্রামের হাসেম আলী, রফিক, নিছার ও আব্দুস সাত্তারের একটি করে গরু আক্রান্ত হয়েছে।
মেম্বর বলেন, স্মরণপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের দুটি গরুর মধ্যে একটি গরুর মৃত্যু হয়েছে, বাকিটি আক্রান্ত। এছাড়া শহিদুলের একটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। তার দুটি ও বিল্লালের একটি গরু আক্রান্ত হয়েছে।
পাশের বাসুদেবপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার ওয়ার্ডে প্রায় ২০টি গরু খুরা রোগে ভুগছে।
ইউনিয়নের কোদলাপাড়া গ্রামের শওকত, নূর করিম, আনার মিয়া ও আমিনুর রহমানের একটি করে গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
এদিকে উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলের ঝাঁপা, হানুয়ার, মোবারকপুর, রামপুর, হরিসপুর, চণ্ডিপুর ও আশপাশের গ্রামগুলোতে খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২৫-৩০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
স্মরণপুর গ্রামের ফুরকান বলেন, ‘অনেক আগ থেকেই বাড়িতে গাভী পালন করি। এখন আমার বাড়িতে সাতটি গরুর প্রত্যেকটি খুরা রোগে আক্রান্ত। যেভাবে চারদিকে গরু মরার খবর পাচ্ছি তাতে ভয়ে আছি কখন কী হয়।’
‘এই পর্যন্ত কোনো সরকারি লোককে দেখিনি গ্রামে ঢুকে গরুর খবর নিতে। গ্রামজুড়ে এতো গরুর মৃত্যু হলেও তাদের কোনো খোঁজ নেই। স্থানীয়ভাবে গরুর চিকিৎসা করিয়ে ফল মিলছে না,’ আক্ষেপ ফুরকানের।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস বলছে, খুরা রোগের মূল লক্ষণ হচ্ছে, আক্রান্ত গরুর গলার ভিতরে বা জিহ্বায় ও পায়ে  ক্ষত সৃষ্টি হওয়া। আক্রান্ত গরুর মুখ দিয়ে লালা ঝরা। মুখে ক্ষত হওয়ায় আক্রান্ত গরু খাওয়া বন্ধ করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। এছাড়া পায়ে ক্ষত হওয়ায় গরু নড়াচড়া করতে পারে না। এই রোগের হাত থেকে গরুকে রক্ষা করতে হলে প্রতি চার মাস অন্তর প্রতিষেধক ব্যবহার করা প্রয়োজন।
মণিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আবুজার সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত টিকা ও জনবল সংকট রয়েছে। তারপরও সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি। মাঝে এই রোগ দেখা দিয়েছিল। এখন আর তেমন আক্রান্ত গরু রয়েছে বলে জানা নেই। তবে গরু পালনকারীরা যে কোনো সময় আমার দপ্তরে খবর দিলে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।’

আরও পড়ুন