খুলনায় ওয়াসা কর্মচারীর ওপর হামলা, তুলকালাম

আপডেট: 07:44:19 11/12/2016



img

খুলনা অফিস : নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থবাণিজ্যের অভিযোগে উচ্চ আদালতে মামলা করায় খুলনা ওয়াসার পাম্প অপারেটর নূর আলমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে নগরীর বয়রায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিস চত্বরের মধ্যে অবস্থিত ওয়াসার পাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে, অফিস চত্বরে হামলার ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘণ্টা বাজিয়ে প্রধান গেট লাগিয়ে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে ওয়াসার একজন প্রতিনিধি গিয়ে ক্ষমা চেয়ে তাদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ওয়াসায় নিয়োগবঞ্চিতদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'ওয়াসার বেশ কয়েকজন কর্মচারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিস চত্বরে অনধিকার প্রবেশ করে পাম্প অপারেটর নূর আলমের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় হামলাকারীদের আটকে রাখা হয়। কিন্তু বিষয়টি ওয়াসার অভ্যন্তরীণ হওয়ায় পরে তাদের কর্মকর্তা দেবতোষকুমার দাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়।'
অভিযোগে জানা গেছে, সম্প্রতি খুলনা ওয়াসায় নিয়োগ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নিয়োগবঞ্চিত হয়ে পাম্প অপারেটর নূর আলম উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ কারণে ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের কতিপয় নেতা এবং নিয়োগপ্রাপ্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিস চত্বরের মধ্যে অবস্থিত ওয়াসার পাম্পে গিয়ে মারধর করে। তার জামাও ছিড়ে ফেলা হয়। তখন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘণ্টা বাজিয়ে প্রধান গেট লাগিয়ে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন।
হামলার শিকার পাম্প অপারেটর নূর আলম জানান, তিনি পাম্পে কর্মরত থাকা অবস্থায় ওয়াসার সাময়িক বরখাস্ত কর্মচারী আকবর হোসেন সেখানে গিয়ে ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কথা বলে তাকে ডাকতে থাকে। কিন্তু তিনি কাজ ফেলে যেতে অস্বীকার করেন। কয়েক মিনিট পর কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মোড়লের নেতৃত্বে সিনিয়র সহ-সভাপতি সরদার সাইফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইউসুফ আলী শেখ, ক্রীড়া সম্পাদক নাজমুল করিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসেন, নিজাম, বিল্লাল, রবিউলসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন তাকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে কয়েকজন তাকে মারধর করে। জামা কাপড় ছিড়ে ফেলে। সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইউসুফ আলী শেখ তাকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে ইউনিয়নের সভাপতি বাবুল শেখ এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে শাসায়। তার চিৎকারে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার এবং হামলাকারীদের আটকে রাখে।
হামলা ও হুমকির কারণে তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান।
অপরদিকে, মামলার অপর বাদী পাম্প অপারেটর মামুন হাসানও ইউনিয়ন নেতাদের হুমকি-ধামকির কারণে ছুটি নিয়ে আত্মগোপন করেছেন।
তিনি জানান, তাকে এবং নূর আলমকে মারধরের পরিকল্পনার বিষয়টি তিনি জানতে পেরে ছুটি নিয়ে আত্মগোপন করেন। কিন্তু বিষয়টি না জানায় সকালে ইউনিয়ন সভাপতি বাবুল ও সম্পাদক আনিসের নেতৃত্বে ইলিয়াস ও কিবরিয়াসহ কয়েকজন হেড অফিসের পাম্পে তাকে মারতে যায়। তাকে না পেয়ে সেখানে কর্মরত ফিরোজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ওই সময় ফিরোজ ফোন করে তাকে গালিগালাজ করে। এ ঘটনার পর বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ওয়াসার সহকারী প্রকৌশলী দেবতোষকুমার দাস বলেন, ‘ওয়াসার নিয়োগের বিষয়ে সংক্ষুব্ধ পাম্প অপারেটর নূর আলম হাইকোর্টে রিট করেছেন। এ বিষয়টি শোনার জন্য আমাদের লোকেরা উত্তেজিত হয়ে তাকে ডাকতে যায়। কিন্তু তিনি না আসায় সেখানে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। ওই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে রেখেছিল। পরে ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বাবুল তাকে ফোন করে সেখানে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুল এবং অন্যায় স্বীকার করে তাদের ছাড়িয়ে আনেন।’
এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন