খুলনায় কয়েক কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভোট

আপডেট: 01:56:26 17/05/2018



img
img
img

মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, খুলনা : খুলনা সিটি করপোরেশনে একটি কেন্দ্রের মোট ভোটার এক হাজার ৮১৭ জন। সেখানে মঙ্গলবার ভোট দিয়েছেন এক হাজার ৮১৬ জন। মাত্র একজন ভোট দেননি। ভোটদানের হার ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ!
এ রকমই অস্বাভাবিক ভোটদানের হার দেখা গেছে একাধিক কেন্দ্রে।
মঙ্গলবার খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেককে বেসরকারিভাবে জয়ী ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৭৬ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন এক লাখ আট হাজার ৯৫৬ ভোট। ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮৬টি কেন্দ্রের ফলাফল দেওয়া হয়। তিনটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত কেন্দ্রওয়ারি ভোট প্রদানের তালিকা অনুযায়ী দেখা যায়, নয়াবাটি হাজি শরীয়ত উল্লাহ বিদ্যাপীঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট ভোটার এক হাজার ৮১৭। এর মধ্যে ভোট প্রদান করেছেন এক হাজার ৮১৬ জন। অর্থাৎ একজন ভোটার ভোটপ্রদান করেননি। ওই কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন এক হাজার ১১৪ ভোট। বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ৩৭৩ ভোট। বাতিল হয়েছে ২৪৭ ভোট। ওই কেন্দ্রে জাতীয় পার্টি  তিনটি, সিপিবি তিনটি আর ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ৭৬টি ভোট পায়।
এই এলাকাটি খালিশপুর থানাধীন অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকা। দীর্ঘদিন এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে আসছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। কিন্তু এবার নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ নেতা তালাত হোসেন কাউট ।
একইভাবে নয়াবাটি জনকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খালিশপুর ভোটকেন্দ্রে মোট ভোট এক হাজার ৬৪৯টি। ওই কেন্দ্রে ভোট পড়েছে এক হাজার ৪৪৪টি। ভোট প্রদানের হার ৮৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ওই কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে ৯৩৬ ভোট, ধানের শীষ পেয়েছে ৪২২ ভোট। বাতিল হয়েছে ১৬টি ভোট।
মওলানা ভাসানী বিদ্যাপীঠ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মোট ভোটার এক হাজার ৫০৩। ভোট পড়েছে এক হাজার ৪৬৭টি। ভোট প্রদানের হার ৯৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। এই কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে ৯৯৭ এবং ধানের শীষ পেয়েছে ৩৯০ ভোট। বাতিল হয় ৪৬ ভোট ।
নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ভোট এক হাজার ৫০৮টি। ভোট পড়েছে এক হাজার ৩৭৮টি। ভোট প্রদানের শতকরা হার ৯১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এখানে নৌকা পেয়েছে এক হাজার ২০২ আর ধানের শীষ পেয়েছে ১৪২ ভোট।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্ট থেকে জানা যায়, এক বৃদ্ধ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেছেন তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। কৌতূহলে তিনি তার স্ত্রীর ভোট দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চান। স্ত্রীর ভোট দেওয়া হয়েছে জেনে নাকি আক্ষেপ করে বলেছেন- 'এতো বছর এক সাথে ঘর করলাম, তুমি পরপার থেকে এসে ভোট দিতে পারলে কিন্তু আমার সাথে দেখা করলা না!'
শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলোতে এই কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে : 'খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে একজন বয়স্ক মানুষ ভোট দিতে এসেছেন। পোলিং অফিসার বললেন, দাদু আপনার ভোট তো হয়ে গেছে, বয়স হয়েছে তো, তাই মনে রাখতে পারেন না। বৃদ্ধ মাথা নাড়িয়ে বললেন, হু তা ঠিক। তবে একটু দেখবেন যে, আমার স্ত্রী ভোট দিয়ে গেছেন কি-না? আমার স্ত্রীর নাম কুলসুম বেগম। পোলিং এজেন্ট ভোটার লিস্ট দেখে বলল- হ্যাঁ দাদু, দাদীর ভোটও তো হয়ে গেছে।
বৃদ্ধ হাউমাউ করে কেঁদে উঠে বললেন- ওগো, এতোদিন ধরে একসাথে ঘর করে এই প্রতিদান? পরপার থেকে তুমি ভোট দিতে আসতে পারো, আমার বাসায় তুমি আসতে পারো না? আমার চাইতে ভোট তোমার প্রিয় হলো?'
বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, ‘বিএনপি অধ্যুষিত এলাকায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে।’
সূত্র : এনটিভি

আরও পড়ুন