খুলনায় সড়কে কলেজগেট নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আপডেট: 02:38:28 24/08/2016



img
img

খুলনা অফিস : নগরীর লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়া এলাকায় জনসাধারণের চলাচলের সড়কের মুখ বন্ধ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখল করে আবার হাজী আব্দুল মালেক ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের গেট নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার সকালে মিস্ত্রিরা গেট নির্মাণকাজ শুরু করলে এলাকাবাসী প্রতিহত করেন। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে দশটা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাজপথে নেমে দুই ঘণ্টা মানববন্ধন করে এলাকার নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষ। এ সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং এলাকাবাসীর মধ্যে সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করছেন, রাস্তা বন্ধ করে গেট নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর যাতায়াত, এমনকী দুটি কবরখানায় লাশ দাফনও বাধাগ্রস্ত হবে। এ ঘটনায় স্থায়ীভাবে অবরুদ্ধ হওয়ার আশংকায় কলেজ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তার পরিবর্তে কলেজের নিজস্ব জমিতে গেট নির্মাণের দাবি জানান।
তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা শুধুমাত্র গেট নির্মাণ করছেন, রাস্তা বন্ধ করছেন না।
এলাকাবাসী জানান, খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) মালিকানাধীন জিন্নাহপাড়া প্রথম গলির (সড়ক) প্রবেশ মুখেই হাজী আব্দুল মালেক ডিগ্রি কলেজের গেট নির্মাণের জন্য দুই দিকের দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রবেশ পথের বাম দিকে সাংবাদিক এটিএম আতিকুর রহমানের মালিকানাধীন জমির মধ্যেও একটি পিলার স্থাপন করা হচ্ছে। এর আগেও কলেজের অধ্যক্ষ দেলোয়ারা বেগম জোর করে ওই জমিতে পানির পাম্প এবং ছাত্র কল্যাণ ভবন নির্মাণের চেষ্টা করেন। এছাড়া ইতোপূর্বে বালু ভরাট করে পয়ঃনিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ করে দেওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছেন। এখন স্থায়ীভাবে গেট নির্মাণ হলে এলাকার দুটি কবরখানায় মৃতদেহ দাফনের জন্য অনেক দূর ঘুরে যেতে হবে।
এদিকে, এলাকাবাসীর দাবি উপক্ষো করে বুধবার সকালে কলেজ কর্তৃপক্ষ গেট নির্মাণ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে। সকাল দশটার দিকে তারা কলেজ অধ্যক্ষ দেলোয়ারা বেগমকে গেটে অবরুদ্ধ করেন। এক পর্যায়ে কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপুসহ অন্যান্য শিক্ষকরা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে লবণচরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে এলাকাবাসী মানববন্ধন করে এর প্রতিবাদ জানায়। কোনোভাবেই রাস্তা বন্ধ করে গেট নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে তারা জানান।
মানববন্ধনে সিদ্দিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম, শফিকুর রহমান, আব্দুল বারেক ও আক্কাস আলীসহ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
তবে কলেজ অধ্যক্ষ দেলোয়ারা বেগম বলেন, ‘জেলা পরিষদের ফান্ডে তারা সেখানে শুধুমাত্র কলেজের গেট নির্মাণ করছেন, রাস্তা বন্ধ করছেন না।’
তবে পরীক্ষার সময় গেট বন্ধ রাখা হয় বলে স্বীকার করেন তিনি।

আরও পড়ুন