খুলনায় হাজারে ১৪ নবজাতকের মৃত্যু

আপডেট: 05:20:02 05/09/2018



img

খুলনা অফিস : অদক্ষ দাই, সনাতন পদ্ধতিতে ডেলিভারি ও অপুষ্টিজনিত কারণে নবজাতকের মৃত্যুর হার বাড়ে। খুলনায় বছরে প্রতি হাজারে ১৪ জন নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। এ তথ্য গেল বছরের।
এই জেলায় নবজাতকের মৃত্যুতালিকায় শীর্ষে রয়েছে ডুমরিয়া ও পাইকগাছা উপজেলা। ২০২৫ সালে খুলনায় প্রতি হাজারে নবজাতকের মৃত্যু ১২ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে।
নবজাতকের মৃত্যুর হার কমানোর মাধ্যমে এসডিজি অর্জনের লক্ষে জাতীয় নবজাতক স্বাস্থ্য কর্মসূচি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
 বুধবার দুপুরে সিভিল সার্জনের কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিভিল সার্জন কার্যালয়, খুলনা ও জেনারেল হাসপাতাল যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সুশান্তকুমার রায়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সরাফত হোসেন।
এসময় ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. আতিয়ার রহমান শেখ, চিকিৎসক ও সেবিকারা উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ।
সভায় বক্তারা বলেন, ২০১৬ সালে সারা দেশে পাঁচ বছর বয়সের নীচে এক লাখ পাঁচ হাজার শিশু মারা যায়। তার মধ্যে ৬২ হাজার নবজাতক। ২০২২ সালের মধ্যে দেশে নবজাতকের মৃত্যু ১৮ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। সেই সঙ্গে মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে হবে।
বলা হয়, আন্তরিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ায় গড় আয়ু বেড়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুলনা জেলার শূন্য থেকে ২৮ দিন বয়সী শিশুমৃত্যু সংখ্যা প্রতি হাজারে ১৪। এক্ষেত্রে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা ১২ বা তার নিচে; যা ২০২৫ সালের মধ্যে অর্জিত হতে পারে বলে আশা স্বাস্থ্য বিভাগের।
অনুষ্ঠানে শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হয়, কম জন্মওজন, সংক্রমণ ও প্রসবকালীন সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব। কম জন্মওজনের শিশুকে মায়ের শরীরের সংস্পর্শে রেখে সঠিক উষ্ণতা প্রদানের জন্য ক্যাঙ্গারুকেয়ার পদ্ধতির অনুসরণ শিশুমৃত্যুহার কমাতে অবদান রাখতে পারে। জন্মের এক মিনিটের মধ্যে শিশুর কেঁদে ওঠা নিশ্চিত করা ও শিশুকে সংক্রমণমুক্ত পরিবেশে রাখা একান্ত প্রয়োজন। শিশুর জন্য সঠিক নিওনেটাল কেয়ার নিশ্চিত করা গেলে শূন্য থেকে ২৮ দিন বয়সের শিশুর মৃত্যুহার উল্লেখ্যযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
সব ধরনের কৃত্রিম শিশুখাদ্য পরিহার করে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের বুকের দুধ পান করানো শুরু করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি, ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, যথাযথ সমন্বয় ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকার শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস ও এসডিজি লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে।