খুলনা গাজীপুর ভোটে সেনা চেয়েছে বিএনপি

আপডেট: 01:57:26 17/04/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের ৭ দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। সেইসঙ্গে গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার হারুনর রশিদকে প্রত্যাহারের দাবি এবং দুই সিটিতে কর্মরত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী (চিহ্নিত দলীয় আনুগত্যশীল ও বিতর্কিত) কর্মকর্তাদের বদলি করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগের দাবি জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) সকালে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ইসির জন্য অগ্নিপরীক্ষা বলে আখ্যায়িত করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কমিশনের কাছে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলেছি। জাতীয় নির্বাচনের আগে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তার ইঙ্গিত বহন করে।’
এই দুই সিটির নির্বাচন কমিশনের জন্য জনগণের আস্থা অর্জনেরও বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খন্দকার মোশাররফ আরও বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে সবাই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় আছে। সবাই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন চায়।’
এ প্রসঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চাই। এজন্য আমরা কমিশনকে অনেকগুলো প্রস্তাব দিয়েছি। নির্বাচন কমিশন এই দুটি সিটি করপোরেশন নির্বচান সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে করতে পারলে তাদের প্রতি আস্থা সুদৃঢ় হবে। এতে জাতীয় নির্বাচনের একটি বাধা দূর হবে।’
 
খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে সেনা মোতায়েনের দাবি করে বলেন, ‘অতীতে আমরা দেখেছি, শঙ্কা ও ভয়ভীতির কারণে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে ভোটারদের অনাস্থা রয়েছে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী থাকলে তাদের সাহস বাড়বে এবং ভোট দিতে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘কমিশন তাদের কাছে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ও ডিভিএম পরীক্ষামূলক ব্যবহারের কথা আমাদের জানিয়েছিল তবে আমরা এর বিরোধিতা করেছি। বলেছি, ইভিএম ও ডিভিএম নিয়ে দেশে-বিদেশে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। এজন্য আমরা পরীক্ষামূলকভাবেও এটি ব্যবহারে একমত নই।’
বিএনপি প্রতিনিধি দল গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত সমন্বয় কমিটি গঠনের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এটি বাতিলের দাবি জানান।
এছাড়া বিএনপি প্রতিনিধি দল তাদের দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের অংশগ্রহণের কথা বলেন।
এ বিষয়ে খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, ‘মুক্ত খালেদা জিয়াকে ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। আমরা কমিশনকে এ বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচন এখন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হয়। ফলে নির্বাচনী এলাকার বাইরেও প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রী নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইলে তা এই নির্বাচনের ওপরই প্রভাব পড়বে। এবং এটি নির্বাচন আচরণবিধিও লঙ্ঘন। তাই আমরা ইসিকে বলেছি এই নির্বাচন চলাকালে দেশের কোথাও যেন এভাবে দলের পক্ষে ভোট চাওয়া না হয়।’
বিএনপির প্রতিনিধি দল কমিশনে ২২ দফা লিখিত প্রস্তাব তুলে ধরেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ছাড়াও বিএনপি প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, এবিএম আব্দুস সাত্তার ও ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন ।
বৈঠকে সিইসি ছাড়াও অন্যান্য কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনের সচিব সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুন