খোঁড়া রাস্তা সংস্কার হয়নি চার মাসেও, জনদুর্ভোগ

আপডেট: 07:54:36 10/05/2018



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : সংস্কারের নামে মণিরামপুরের মদনপুর বাজার থেকে খাটুরা সড়কটির প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে গত চারমাস। দীর্ঘদিনেও রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
রাস্তা খোঁড়া থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ওই এলাকাসহ আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ। চলাচলের জন্য পথচারীদেরকে রাস্তার দুই পাশের সরু পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। তাও আবার যেতে হচ্ছে পায়ে হেঁটে। ব্যবহার করতে পারছেন না কোনো যানবাহন। পাকাকরণের লক্ষে রাস্তাটি খোঁড়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ না করে ফেলে রেখেছে।
উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের মদনপুর বাজার হয়ে খাটুরা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটিতে আগে ইট বিছানো ছিল। রাস্তাটি পাকা করার জন্য উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিস দরপত্র আহ্বান করে। কাজের দায়িত্ব পায় ঝিকরগাছার ‘শিমুল কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তাটি সংস্কারের কাজ শুরু হয় চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। ঠিকাদার তার লোক দিয়ে ইট তুলে রাস্তা খোঁড়ার কাজ শেষ করেন। পরে আর কোনো কাজ না করে হঠাৎ ঠিকাদার তা বন্ধ করে দেন। তখন থেকে শুরু হয় জনদুর্ভোগ। রাস্তাটি প্রায় এক ফুট গভীর করে খোঁড়ায় একটু বৃষ্টি হলেই তাতে পানি জমে খালে পরিণত হয়। পানি সরে পড়ার পর সেখানে দেখা দেয় কাদা।
সরেজমিন বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে রাস্তায় কাদা জমে থাকতে দেখা গেছে। এসময় কথা হয় স্থানীয়দের সঙ্গে। তারা এই ব্যাপারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দায়ী করেছেন উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসকে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার হাজারো মানুষ দুর্ভোগে থাকলেও সেই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কারো মাথা ব্যথা নেই।
এলাকাবাসী বলছেন, এই সড়কেই খাটুরা বাজারে অবস্থিত হরিহরনগর ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয় তাদের। আবার মণিরামপুর উপজেলা সদরে আসতেও ব্যবহৃত হয় রাস্তাটি। পাশের ঝিকরগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সহজে যাতায়াত করার সংক্ষিপ্ত পথও এটি। সড়কটির দুই পাশে মদনপুর হাইস্কুল, প্রাইমারি স্কুল, মদনপুর দাখিল মাদরাসা, খাটুরা হাইস্কুল ও খাটুরা প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। এছাড়া রাস্তাটির দুই পাশে রয়েছে একাধিক মসজিদ ও মদনপুর বাজার। রাস্তাটি খুঁড়ে রাখায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতে এবং মসজিদসহ বাজারে যাওয়া-আসায় এলাকাবাসীকে পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে।
এদিকে, চলতি মাসের ১৫ তারিখে হরিহরনগর ইউপি নির্বাচন। নির্বাচনের দুটি কেন্দ্রকে সংযুক্ত করেছে সড়কটি। নির্বাচনের পূর্বে রাস্তাটি সংস্কার না হলে ভোটারসহ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পড়তে হবে বিপাকে।
স্থানীয় মদনপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘রাস্তাটি সংস্কার না করে এভাবে ফেলে রাখায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তারা সোজা পথ বাদ দিয়ে বাড়ির ভেতর দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করে। কোনো প্রকার যানবাহন এমনকি সাইকেল নিয়েও লোকজন চলাফেরা করতে পারে না। বৃষ্টি হলে রাস্তায় পানি জমে থাকে। এখন পুরো রাস্তায় কাদা ভরা।’
জানতে চাইলে ঠিকাদার শিমুল বলেন, ‘রাস্তায় কাজ করব কী করে? রাস্তা খুঁড়ে কাজ শুরু করার পর স্থানীয় কয়েক যুবক চাঁদা দাবি করে। তারা রাস্তায় বালি দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা চায়। তাই কাজ ফেলে রাখতে বাধ্য হয়েছি।’
উপজেলা প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী গাউসুল আজম বলেন, ‘কাজ শুরু হওয়ার পর কিছু সমস্যা হয়েছিল। দ্রুতই কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।’
এই বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘সামনে হরিহরনগর ইউনিয়নের নির্বাচন। ওই সড়ক দিয়ে দুটি কেন্দ্রে যাতায়াতের পথ। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করতে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন