গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গৃহশিক্ষক আটক

আপডেট: 02:51:32 10/02/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর জিলা স্কুলের গেট থেকে এসএসসি সাধারণ গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে মনিরুল ইসলাম (২৮) নামে এক গৃহশিক্ষককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
শনিবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে যশোর জিলা স্কুলের দুই নম্বর গেট থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক মনিরুল ইসলাম যশোর শহরের বেজপাড়ার বাসিন্দা। তিনি নুসরাত ফারিহা তিন্নি নামে এমএসটিপি স্কুলের এক পরীক্ষার্থিণীর গৃহশিক্ষক এবং যশোর এমএম কলেজের ছাত্র। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ধোপাদি গ্রামে। তার বাবার নাম ছানাউদ্দিন।
প্রত্যক্ষদর্শী শহরের বেজপাড়ার বাসিন্দা রশিদুজ্জামান মাসুম ও পূর্ববারান্দীপাড়ার মো. সোহেল রাজ্জাক সুবর্ণভূমিকে জানান, জিলা স্কুলের সামনে মনিরুল ইসলাম নামে ওই যুবক কয়েক পরীক্ষার্থীকে তার মোবাইল ফোনে থাকা প্রশ্নপত্র দেখিয়ে দিচ্ছিলেন। এসময় সামান্য বৃষ্টি হচ্ছিল। তিনি ছাতা মাথায় এই অপকর্ম করছিলেন। সেখানে উপস্থিত লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে মনিরুলকে আটক করে জিলা স্কুলের অফিস কক্ষে নিয়ে যান।
জিলা স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক সোহিব হোসেন সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থানীয় জনগণ মনিরুল ইসলাম নামে এক যুবককে আটক করে আমাদের কাছে আনে। আমরা তাকে পুলিশে দিয়েছি।’
জিলা স্কুল কেন্দ্রের সচিব আব্বাস উদ্দিন সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আজ খ সেটের প্রশ্নপত্রে গণিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। মনিরুল ইসলাম নামে যে ছেলেটিকে জনগণ আটক করে আমাদের কাছে দিয়েছে, তার মোবাইল পরীক্ষা করে ফেসবুকে ক সেটের প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে। আমি তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। পুলিশ বিষয়টি দেখবে।’
জানতে চাইলে কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) আবুল বাশার সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘মনিরুল ইসলাম নামে এক যুবককে জনগণ ধরে দিয়েছে। সে ঘটনার সাথে জড়িত কি না পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।’
জিলা স্কুল কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘জনগণ মনিরুল ইসলাম নামে এক যুবককে আটক করে স্কুলের অফিস কক্ষে দিলে স্যাররা তাকে আমার কাছে দেয়। আমি থানায় ফোন দিলে থানা থেকে এসআই শহিদুল ইসলাম আসেন। মনিরুলকে আমি তার কাছে হস্থান্তর করি।’
এসআই শহিদুল ইসলাম সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘মনিরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে ক সেটের প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে। আর আজ পরীক্ষা হয়েছে খ সেটের প্রশ্নপত্রে। সে এই প্রশ্নপত্র কীভাবে পেল পুলিশ তা তদন্ত করে দেখবে।’
আটক মনিরুল ইসলাম প্রশ্নপত্র ফাঁসে তার কোনো ভূমিকা নেই বলে দাবি করেন।
তিনি সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমি এমএসটিপির পরীক্ষার্থী নুসরাত ফারিহা তিন্নির গৃহশিক্ষক। আমি তাকে সাহস দিতে কেন্দ্রের সামনে এসেছিলাম। লোকজন বিনা কারণে আমাকে সন্দেহ করে পুলিশের কাছে দিয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খ সেটের প্রশ্নপত্র আমার ফেসবুক ওয়ালে কীভাবে এসেছে তা জানি না।’

আরও পড়ুন