গরু আসছে, খামারিরা দুশ্চিন্তায়

আপডেট: 01:32:53 24/08/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বেনাপোল ও শার্শা সীমান্তের বৈধ ও অবৈধ পথে ভারত থেকে গরু আসছে।
শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কত গরু আসছে তার হিসেব কারো কাছে না থাকলেও কথিত বৈধ পথে আসা পশুর একটি হিসাব রয়েছে কাস্টম ও ভ্যাট অফিসে। এ হিসেবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এক হাজার ৬৭০টি গরু ও ৩২০টি ছাগল এসেছে। এ সংখ্যা ক্রমে বাড়বে বলে কাস্টম ও গরু ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন।
অন্যদিকে ভারতীয় গরুর আসা অব্যাহত থাকায় দেশি খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বেনাপোল ও শার্শা সীমান্ত এলাকায় ছোট বড় বড় প্রায় ৭-৮ শত গরুর খামার রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের হিসেব মতে, কুরবানি উপলক্ষে যশোরের আট উপজেলায় ৬৮ হাজার ২৫টি পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হচ্ছে। এরমধ্যে গরু ৩৫ হাজার ৭০০, ছাগল ২৯ হাজার ৩০০ ও ভেড়া রয়েছে তিন হাজার। কুরবানি ঈদে জেলায় ৫৫ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। এ জেলার চাহিদা মিটিয়ে ২৯ হাজার গরু এবং ছাগল ও ভেড়া মিলে ২৬ হাজার বাইরের জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
যশোরের পশ্চিম প্রান্তজুড়ে ভারত সীমান্ত। সীমান্তের বেশিরভাগ স্থানে ভারতীয়দের দেওয়া কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। তবে যে সব স্থানে বেড়া নেই সেই পথে অনায়াসে গরু আসে। আর যে পথে কাঁটাতারের বেড়া, সেখান থেকে গরু আনা হয় ভিন্ন কৌশল। বৈধ পথে গরু, ছাগল ও ভেড়া আনার জন্য বেনাপোলে কয়েকটি খাটালের অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বেনাপোলের পুটখালী, দৌলতপুর শার্শার অগ্রভুলট ও গোগা এই চারটি খাটালে বর্তমানে কিছু কিছু গরু আসছে। কয়েক বছর আগে পুটখালীসহ এসব খাটাল হয়ে প্রতিদিন ৩-৪ হাজার গরু আসতো। মোদি সরকার ভারতে ক্ষমতায় আসার পর গরু আসা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলেও তা আবার ধীরে ধীরে চালু হয়েছে। বর্তমানে দিনে হাজারখানেক গরু ঢুকছে এসব খাটালে।
বেনাপোল সীমান্ত এলাকার বড় বড় দেশি গরুর খামার পুটখালী গ্রামে। এখানে ছোট বড় অনেক খামার রয়েছে। ভারত থেকে নতুন করে গরু আসায় খামারিরা হতাশায় ডুবছেন। তাদের ভাষ্য, ‘সারা বছর না এলেও কুরবানির সময় দেদারছে সীমান্ত দিয়ে গরু আসায় আমাদের ব্যবসা ধ্বংসের উপক্রম হয়েছে। আমরা গরুকে সন্তানের মতো লালন-পালন করে কুরবানির উপযোগী করে তুলি। এখন ঈদের সময় ভারত থেকে গরু আসায় দেশি গরুর দাম পড়ে যাবে।’
শার্শার নাভারন পশু শুল্ক করিডোর সূত্রে জানা যায়, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এক হাজার ৬৭০টি গরু ও ৩২০টি ছাগল এসেছে ভারত থেকে। দায়িত্বরত কর্মকর্তা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সুমা মনি জানান, বেনাপোল ও শার্শা সীমান্তের চারটি পশুহাট পুটখালী, দৌলতপুর, অগ্রভুলট ও গোগা দিয়ে যে পশু আসে নাভারন করিডোরে এর ভ্যাট আদায় করা হয়। এখন দিনে গড়ে ২০০ থেকে ২৫০টি পশু আসছে। ঈদ সামনে রেখে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
অবশ্য ভারত থেকে গরু এলেও দেশি খামারিরা খুবএকটা ক্ষতির মুখে পড়বেন না বলে মনে করছেন না যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবতোষকান্তি সরকার। তিনি বলেন, ‘যদি প্রতিদিন হাজার হাজার গরু ভারত থেকে আসে, তাহলেই কেবল দেশি খামারিরা লোকসানে পড়বে।’
বেনাপোলের ঘিবা গ্রামের জবেদা খাতুন বলেন, ‘সারা বছর গরু লালন পালন করে থাকি কুরবানির সময় কিছু টাকা পাওয়ার আশায়। এ বছর ১৫টি বড় জাতের গরু পালন করেছি। গোয়ালঘরে ফ্যানের ব্যবস্থা করতে হয়। ভালো খাবার দেওয়া হয়। দেখা যাক কষ্টের মূল্য পাওয়া যায় কিনা।’

আরও পড়ুন