গাছে ঝুলিয়ে নির্যাতন, নেতা আটক

আপডেট: 05:24:01 05/01/2019



তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে চুরির অভিযোগে রানা নামে এক যুবককে গাছে ঝুলিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে।
নির্যাতনের এই ঘটনা ঘটে ভোটের দুইদিন আগে ২৮ ডিসেম্বর উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে। পরে কেউ একজন নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেন। এটি ভাইরাল হওয়ার পর তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। শুক্রবার রাতে আটক করা হয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা শাহিনুর রহমান তুহিন ও তার সহযোগী কাজি বাবুল হোসেন।
স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনার দিন টেলিভিশন চুরির অভিযোগে রানা নামে ওই যুবককে উল্টো করে গাছে ঝুলিয়ে নির্যাতন করে আওয়ামী লীগ নেতা শাহিনুর রহমান তুহিন ও তার সহযোগীরা। শুক্রবার নির্যাতনের ভিডিওটি কেউ একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তা। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মামলা হয়, আটক করা হয় অভিযুক্তদের।
নির্যাতিত রানা হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের কৃষক ওমর আলী ছেলে।
তার পরিবারের দাবি, ধানের শীষের পক্ষে ভোট করায় রানাকে নির্যাতন করা হয়।
নির্যাতনকারী শাহিনুর রহমান তুহিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি দলের একাংশের সভাপতি।
নির্যাতিত রানার বাবা ওমর আলী বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগ নেতা শাহিনুর রহমান তুহিনসহ পাঁচজনকে আসামি করে হরিণাকুণ্ডু থানায় মামলা করেন।
তাহেরহুদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনজের আলী জানান, ভোটের দুইদিন আগে ২৮ ডিসেম্বর দুপুরে মাঠে কাজ করছিল রানা। এসময় শাহিনুর রহমান তুহিন নামে এই আওয়ামী লীগ নেতা টেলিভিশন চুরির অভিযোগে রানাকে ধরে আনে। এরপর গ্রামের একটি গাছে উল্টো করে ঝুলিয়ে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে।
‘ঘটনার দিন আমি এলাকায় ছিলাম না। নির্যাতনের পর পরিবারের সদস্যরা গুরুতর অবস্থায় তাকে কুষ্টিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে এখন কোথায় তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বা তারা কোথায় আছে তা জানি না,’ বলছিলেন স্থানীয় এই জনপ্রতিনিধি।
নির্যাতনের শিকার রানা বিএনপি সমর্থক বলেও জানান এই ইউপি চেয়ারম্যান।
অভিযুক্ত শাহিনুর রহমান তুহিন দাবি করেন, ‘ভোটের পাঁচ দিন আগে নির্বাচনী ক্যাম্পের টিভি চুরি হয়ে যায়। আমরা জানতে পারি রানা টিভি চুরি করেছে। তাই তাকে ধরে পুলিশে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু টিভি উদ্ধার না হওয়ায় আমি তাকে সামান্য মেরেছিলাম। তাকে আমি চিকিৎসাও করিয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিষয়টা ভিন্নভাবে তুলে ধরে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে।’
নির্যাতক তুহিনের দাবি, ‘রানা বিএনপির দুর্ধর্ষ ক্যাডার ছিল। এছাড়া পেশাদার চোর বলে সবাই তাকে চেনে। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলাও আছে।’
অজ্ঞাত স্থানে চিকিৎসাধীন থাকায় নির্যাতিত রানার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে, রানার বাবা ওমর আলী বলেন, ‘আমার ছেলে চুরির সাথে জড়িত না। তাকে অন্যায়ভাবে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে।’
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, ভোটের কয়েকদিন আগে রানা নামে ওই যুবককে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তুহিন ধরে থানায় এনেছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিস থেকে টেলিভিশন চুরির। সে সময় আমরা তাকে টেলিভিশন উদ্ধারের জন্য চেষ্টাও করেছিলাম। কিন্তু না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় তাকে ফেরত দেওয়া হয়। এরপর কী হয়েছে আমার জানা ছিল না। এখন ঘটনা জানার পর শুক্রবার রাতেই অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা শাহিনুর রহমান তুহিন ও কাজি বাবুলকে আটক করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন