গাড়িচালক হাসানুজ্জামান খুনে স্ত্রী জড়িত!

আপডেট: 08:56:08 01/09/2019



img

স্টাফ রিপোর্টার : এলজিইডির গাড়িচালক এটিএম হাসানুজ্জামান জগলু (৪৫) হত্যাকা-ে জড়িত সন্দেহে পুলিশ তার স্ত্রী তাহমিনা পারভীন তমাকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনেভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন আজ (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নি.) গাজী মাহবুবুর রহমান ৩১ আগস্ট বেলা আড়াইটার দিকে যশোর পিবিআই অফিস থেকে তাহমিনা পারভীন তমাকে গ্রেফতার করেন। আজ ১ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
২৮ আগস্ট সকালে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের সাতমাইল এলাকায় কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের পাশে একটি ব্রিজের কাছ থেকে হাসানুজ্জামান জগলুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পিবিআই জানায়, ১৯৯৯ সালে জগলুর সাথে তমার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। ২০০৮ সালে জগলু সাসপেন্ড হওয়ার পর তাদের সংসারে আর্থিক সঙ্কট ও পরে কলহের সৃষ্টি হয়। মেয়েকে কুষ্টিয়ায় রেখে ছেলেকে কলেজে পড়ানোর জন্যে তমা ঢাকায় অবস্থান করতে শুরু করেন। সেখানে আল আমিন ও মুরসালিন নামে দু’যুবকের সঙ্গে তমার বন্ধুত্ব হয়। কেরানীগঞ্জে মুরসালিনকে স্বামী এবং আলআমিনকে দেবর পরিচয় দিয়ে তমা ভাড়া বাসায় থাকতেন।
বিষয়টি জানার পর স্বামী জগলু প্রায়ই ফোনে তাকে গালিগালাজ করতেন। ২৬ আগস্ট ফোনে তাদের মধ্যে ব্যাপক ঝগড়া হয়। এরপর সেইরাতে মুরসালিন ও আলআমিনকে তিনি জানান, জগলু তার জীবনকে অতিষ্ট করে তুলেছে, একটা ব্যবস্থা করা দরকার। ওইসময় তারা জগলুকে হত্যার প্লান করে এবং সেই মোতাবেক তারা একটি উবারের গাড়ি নিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ২৭ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা যশোরে পৌঁছায়। রাতে ফোনে জগলুকে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে ঝিনাইদহ শহরের শামিমা ক্লিনিকের সামনে আসতে বলে। রাত ১০টার দিকে তারা জগলুকে গাড়িতে তোলে এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী জগলুকে প্রথমে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করা হয়। এরপর তারা শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ফাঁকা এক জায়গায় তার মরদেহ ফেলে। সেখানে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ছুরি দিয়ে জগলুর গলা কেটে দেওয়া হয়। এরপর তারা ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেয় এবং পথিমধ্যে মুন্সিগঞ্জে মুরসালিনের খালাবাড়ি ওঠে এবং সেখানে কাপড় চোপড় পরিবর্তন ও গাড়ি ধুয়ে মুছে ঢাকায় চলে যায়।
পিবিআই জানায়, হত্যাকা-ের ঘটনায় নিহতের বড়ভাই এটিএম হাকিমুজ্জামান বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা (নম্বর-৮২/২৮.০৮.১৯। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন পুলিশ পরিদর্শক (নি.) গাজী মাহবুবুর রহমান।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর আদালত অঅজ তমাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, কোতোয়ালি পুলিশ ২৮ আগস্ট সকালে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের সাতমাইল এলাকায় কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের পাশে একটি ব্রিজের কাছ থেকে এটিএম হাসানুজ্জামান জগলুর মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি এলজিইডির গাড়িচালক এবং কুষ্টিয়া সদরের জুগিয়া এলাকার মৃত জহুরুল আলমের ছেলে।

আরও পড়ুন