গিরীশ গৈরিকের মা সিরিজ থেকে

আপডেট: 03:14:23 11/07/2017



img

৫১
নারীদের গর্ভে সন্তান এলে
দুধে ভরে ওঠে স্তন।
সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে পরে-
তার মুখে স্তন গুঁজে গুণতে থাকে স্নেহের নক্ষত্র।
বিপরীতে-ভূমিষ্ঠ শিশু মৃত হলে
তখন তাদের স্তন নিজেদের কাছে হয়ে ওঠে বিষের পেয়ালা।

একদা আমার মায়ের স্তনও হয়েছিলো বিষের পেয়ালা
আমাকে জন্মানোর পরে কিংবা তোমাকে ভূমিষ্ঠ করার আগে।

৫২
মা, তুমি নগ্ন হলে
তোমার সমস্ত শরীর আয়না হয়ে যায়
তখন তোমার দিকে তাকালে
শুধু আমাকেই দেখি।

এখনো শরীরের একটা বিশেষ অঙ্গ
মানুষের কাছে অনেক কিছু।
তবুও আমি যখন কবিতা পাঠে নিমগ্ন থাকি
কিংবা মায়ের নান্দনিক নগ্নতা নিয়ে ভাবি
তখন আমার ওই বিশেষ অঙ্গের কথা মনে থকে না।

অথচ! এই আধুনিক সভ্যতার মানুষ কেন ভাবে না
পোষাক আবিষ্কারের পূর্বে- কোটি কোটি বছর ধরে
মা ও সন্তান নগ্ন হয়ে বাস করেছে-স্নেহের হৃদয়তলে।


৫৩
জন্মসূত্রে মানবশিশুর কালোচুল কোনো একদিন সাদা হবে
অথচ-জন্মসূত্রে সাদাচুল কোনো দিন কালো হবে না।
এই বাক্য দুটি কবিতায় লিখে-আমার মা ঘুমিয়ে পড়ল
তারপর ঘুম থেকে জেগে দ্যাখে
তার সমস্ত সাদাচুল কালো হয়ে গেছে।
আর তার শরীরের শিরায় শিরায় যৌবনের ঢেউ খেলছে।

তার এই অমায়িক পরিবর্তন-আমাকে দেখাতে এসে দ্যাখে
আমি তার পিতার মতো বৃদ্ধ হয়ে-মৃত্যুর সাথে লড়ছি।

আসলে- জন্মের সাথে মৃত্যুর এই খেলা
সাদা কালো রঙ ছাড়া আর কিছুই নয়।

৫৪
পেঁয়াজের খোসার মতো নিজেকে ছাড়াতে ছাড়াতে দেখি-
আমার প্রতিটি খোসায় লেগে আছে মায়ের চুম্বন।
মায়ের এই অমেয় চুম্বন আজ সপ্রতিভ মেঘ
তাই বুঝি চুম্বন শব্দটি চুম্বকের খুব নিকটে বাস করে।

মায়ের অমেয় চুম্বনের বাঁধনে আমি যেন বাঁধাকপি
এখন আমার শরীর জুড়ে শুধুই পাতার পোশাক।
নিজেকে আমি যতই নগ্ন করি-
ততই উঠে আসে আরেকটি নতুন পোশাক।
মায়ের চুম্বনের বয়সী আরেকটি নতুন কবিতা।

৫৫
আমাদের মহল্লায় এক পাগলী আছে।
ইদানীং এই পাগলীকে নিয়ে মহল্লাবাসীর কৌতূহল জেগেছে
কৌতূহলের কারণ তার পেটে কে নাকি হাওয়া ঢুকিয়েছে
আর সেই হাওয়া তার পেটের ভেতর বেড়েই চলছে।
তাই কোনো এক বিষণ্ন সন্ধ্যায় আমি তাকে জিজ্ঞাসিলাম :
তোমার পেটে কে হাওয়া ঢুকিয়েছে?
প্রত্যুত্তরে সে আমাকে জানাল-‘তোর বাপ ঢুকিয়েছে’।

সেই থেকে আমার পিতা মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে
                   আমি ঘৃণা করি।