গুটি ইউরিয়া থেকে মুখ ফিরিয়েছেন চাষি

আপডেট: 01:26:50 14/06/2018



img
img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের বিশারত আলীর ছেলে কৃষক ইলিয়াস হোসেন (৫৩) ক’বছর ধরে তার ফসলি জমিতে গুটি ইউরিয়া সার ব্যবহার না করে গুঁড়ো ইউরিয়া ব্যবহার করছেন। তার বক্তব্য হলো, তিন বিঘা জমিতে গুটি ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে তার ছয়জন শ্রমিক লাগবে। কিন্তু গুঁড়ো ইউরিয়া প্রয়োগ করতে একজনই যথেষ্ট। গুঁড়ো ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে যেখানে ৩০০ টাকা খরচ হয়, সেখানে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে এক হাজার ৮০০ টাকা লাগবে।
প্রায় একই কথা বললেন সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে কৃষক নূরুজ্জামান (৩৫)। তার ভাষ্য, চাষিদের এখন গুটি ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে দেখা যায় না বললেই চলে। কয়েক বছর আগে এই সার ব্যবহারের জন্য প্রচার-প্রচারণা দেখা যেত। এখন তাও বন্ধ। ফলে কৃষক তার জমিতে গুটি ইউরিয়া সার প্রয়োগ ভুলতে বসেছেন।
সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল জানান, এ উপজেলায় গুটি ইউরিয়া সার বানানোর জন্য সাতটি মেশিন ভর্তুকি দামে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে গুটি ইউরিয়া ব্যবহারের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করার জন্য কোনো কর্মশালা না হওয়ায় কৃষকরা এ সার প্রয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। সে কারণে সার তৈরির মেশিনগুলো একরকম পড়েই আছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাসেল জানান, তার উপজেলায় গুটি ইউরিয়া সার তৈরির ১২টি মেশিন রয়েছে। এর মধ্যে চালু আছে তিনটি, সাময়িক চালু ছয়টি এবং অচল রয়েছে তিনটি। গুটি ইউরিয়া সার ব্যবহার কমে যাওয়ায় মেশিনগুলো পরিপূর্ণভাবে চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
দামুড়হুদা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বজলু জানান, তার উপজেলায় গুটি ইউরিয়া সার তৈরির নয়টি মেশিন রয়েছে। সেগুলো আর চালু রাখা যাচ্ছে না।
জীবননগরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামসুজ্জামান বলেন, এই উপজেলায় গুটি ইউরিয়া সার তৈরির ছয়টি মেশিন থাকলেও তা কাজে আসছে না।
জীবননগর শাপলাকলি বিদ্যালয়ের কাছে মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোসাবুল হক মোল্লা বলেন, তিনি ২০১২ সালে গুটি ইউরিয়া সার তৈরি শুরু করেন। কিন্তু এখন আর তা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। আগে কৃষকদের গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা করা হতো। এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া তিনিও নিজ উদ্যোগে পোস্টার সেঁটে, লিফলেট বিতরণ করে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে গুটি ইউরিয়া সার তৈরি বন্ধ করে দিয়েছেন।
একই কথা জানালেন সদর উপজেলার নফরকান্দি পশ্চিমপাড়ার আনোয়ার মিয়ার স্ত্রী ইউপি সদস্য হাজেরা বেগম (৪০)।
তিনি বলেন, আইএফডিসির মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকায় তিনি গুটি ইউরিয়া সার তৈরির মেশিনটি নিয়েছিলেন। কৃষকরা এক বস্তা সার কিনে দিলে তিনি ১০০ টাকার বিনিময়ে তার গুটি করে দিতেন। কিন্তু এখন প্রচার-প্রচারণা না থাকায় গুটি ইউরিয়া বানানো কমে গেছে। সরকারিভাবে গুটি ইউরিয়া সারের গুণাগুণ সম্পর্কে বিস্তর প্রচার না করলে এ সার কেউ ব্যবহার করবে না।
প্রচার আর ব্যবহার না থাকায় গুটি ইউরিয়া সার তৈরি কম হচ্ছে বলে তিনি জানান।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাঈম আস সাকীব বলেন, বেশ কিছু দিন এই প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা গুটি ইউরিয়া ব্যবহার বন্ধ করে গুঁড়ো ইউরিয়া ব্যবহার করছে। তাছাড়া গুটি ইউরিয়া প্রয়োগে খরচ একটু বেশি। তবে খুব তাড়াতাড়ি এই প্রকল্প চালু হয়ে গেলে সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন