গুলিবিদ্ধ ছাত্রের বন্ধু হাত-পা ভাঙা অবস্থায় হাসপাতালে

আপডেট: 02:47:51 14/01/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরতলী পুলেরহাটে পলিটেকনিক ছাত্র ইসমাইল হোসেন (২০) গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রকৃত ঘটনা জানা গেছে।
ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে তারই এক বন্ধু রাশেদুল হাসান রাহুলকে (২২) রোববার ভোরে আহত অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাহুল সদরের চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকার  নাজিমউদ্দিনের ছেলে।   
তার স্বজনদের দাবি, শনিবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে পুলিশ বাড়ি থেকে তাকে ধরে নিয়ে চোখ বেঁধে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। 
পুলিশ বলছে, ডাকাত রাহুলকে স্থানীয় লোকজন পিটুনি দিয়ে আহত করেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন এবং পাঁচটি রামদা উদ্ধার করে।    
ইসমাইল প্রথমে দাবি করেন, কারা তাকে গুলি করেছে- তা তিনি জানতেন না। কিন্তু আজ রোববার (১৪ জানুয়ারি) তিনি সুবর্ণভূমিকে বলেন, গতকাল মাথা ঠিক ছিল না। কী বলতে কী বলেছি!
শনিবার বিকেলে তারা পুলেরহা্টে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজের পাশে মাঠে ক্রিকেট খেলছিলেন।  সন্ধ্যার দিকে যখন তিনি ব্যাট করতে নামেন, তখন রাহুল ও সাইফ একটি অস্ত্র নাড়াচাড়া করছিল। হঠাৎ একটি গুলি বের হয়ে তার শরীরে বিদ্ধ হয়। 
যশোর চাঁচড়া ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ এএসআই জহিরুল ইসলাম সুবর্ণভূমিকে বলেছেন, ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ইসমাইল, তার বন্ধু রাহুল, সাইফসহ চারজন পুলেরহাটে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পাশে খালের ধারে বড় ধরনের কোনো অপরাধ সংঘটিত করার উদ্দেশ্যে বসেছিল। ওই সময় রাহুলের কাছে থাকা একটি পিস্তল নাড়াচাড়া করার সময় হঠাৎ করেই একটি বুলেট বের হয়ে ইসমাইলের উরুসন্ধিতে বিদ্ধ হয়। এরপর তাকে স্থানীয় এক ডাক্তারের কাছে নেওয়া হয়। কিন্তু সেই ডাক্তার তাকে চিকিৎসা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরো বলেন, 'হাসপতালে ইসমাইলের বন্ধু সাইফই তাকে এক ব্যাগ রক্ত দিয়েছিল। ইসমাইল, রাহুল, সাইফ প্রত্যেকেই সন্ত্রাসী টাইপের।'
তবে, ইসমাইল দাবি করেন, তিনি সন্ত্রাসী নন। পুলেরহাট বাজারে তারা বাবার একটি ওয়েল্ডিংয়ের একটি দোকান আছে এবং তিনি ছাত্র। 
হাসপাতালে ভর্তি রাহুলের ফুফু ইয়াসমিন সুবর্ণভূমিকে বলেন, 'গেল রাত দশটার দিকে রাহুলকে পুলিশ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তার চোখ বেঁধে পিটিয়ে ডান হাত ও ডান পা ভেঙে আজ ভোরে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।'
রাহুল সুবর্ণভূমিকে জানান, তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী। মাসখানেক আগে তিনি দেশে এসেছেন, আবার চলে যাবেন। তিনি সন্ত্রাসী নন, অস্ত্রও তার নয়।  
যশোর জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার মনিরুজ্জামান লর্ড সুবর্ণভূমিকে বলেছেন, অপারেশনের মাধ্যমে ইসমাইলের শরীর থেকে একটি বুলেট বের করা হয়েছে। এখন তার অবস্থা আশা করা যায় সংকটমুক্ত। 
রাহুলের শরীরের বেশ কয়েক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে সুবর্ণভূমিকে জানান হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স শিরিন সুলতানা। তিনি অর্থোপেডিক চিকিৎসক আব্দুর রউফের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, 'এক্সরে করার পর বোঝা যাবে তার শরীরের হাড় ভেঙেছে কি না।'
যশোর কোতয়ালী থানার ওসি আজমল হুদা বলেন, 'শনিবার রাত দুইটার দিকে তারা খবর পান যশোর সদরের ভেকুটিয়া এলাকায় ডাকাতির প্রাক্কালে স্থানীয় লোকজন রাহুলকে পাকড়াও করে পিটুনি দিয়ে আহত করে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র গুলি উদ্ধার করেছে।'
তিনি জানান, পুলিশ এ ঘটনায় সাইফ ও আল আমিন নামে দুজনকে আটক করেছে।
প্রসঙ্গত, ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শহরতলীর পুলেরহাটে পলিটেকনিক ছাত্র ইসমাইল গুলিবিদ্ধ হন। সেইসময় তিনি দাবি করেন, মোটরসাইকেলে অপরিচিত দুই যুবক এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।