ঘর পেয়ে বেজায় খুশি জাহানারা নূরজাহানরা

আপডেট: 02:58:26 06/08/2018



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের জোকা গ্রামের প্রতিবন্ধী জাহানারা (৪৫)। বিশ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল দীঘিরপাড় গ্রামের আব্দুর রশিদের সঙ্গে। হাঁটাচলা করতে না পারায় স্বামীর ঘরে থাকা হয়নি তার। বিয়ের এক বছরের মাথায় ভেঙেছে সংসার। এরপর ঠাঁই মেলে বাবা সেকেন্দারের ভিটেয়। টিনের ছাবড়ার একটি ঝুপড়িতে আশ্রয় নিয়ে পরের দয়ায় দিন চলে তার। সরকারের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ‘জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পে’ একটি ঘর পেয়েছেন তিনি।সঙ্গে একটি স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানাও রয়েছে। ঘর পেয়ে বেজায় খুশি জাহানারা।
একই প্রকল্পের আওতায় ঘর পেয়েছেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের জালঝাড়া গ্রামের দুই পা হারানো বৃদ্ধ আবুল কাশেম (৬৫)। একসময় কায়িক পরিশ্রমে ভালোই চলতো কাশেমের। ১৯৭১ সাথে যৌবনে রোগাক্রান্ত হয়ে দুই পা হারান তিনি। তবু হাত পাতেননি কারো কাছে। দীর্ঘ ৪০ বছর কলা বেচে সংসার চলেছে কাশেমের। এখন আর তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। স্ত্রী আহিরুন নেছা কাজ করেন অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে। আর একমাত্র ছেলে মতিয়ারের স্বল্পআয়ে চলে কাশেমের পরিবারের সাত সদস্যের সংসার। কাশেমও ঘর পেয়ে মহা খুশি।
শুধু জাহানারা আর কাশেম নন, ঘর পেয়ে আনন্দিত ষোলখাদা গ্রামের নূর জাহান, ফতেয়াবাদ গ্রামের নবীজান, হাজরাকাঠি গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা প্রতিবন্ধী হালিমা ও দিনমজুর লুৎফরসহ উপজেলার দুস্থ অসহায় তিনশ পরিবার।
মণিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ‘যার জমি আছে ঘর নাই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ” উপ-খাতের আওতায় প্রাথমিকভাবে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার তিনশ অসহায় পরিবারকে টয়লেটসহ একটি করে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। যার মধ্যে ঝাঁপা ইউনিয়নে ১০৩টি, মনোহরপুর ইউনিয়নে ৫৮টি, চালুয়াহাটি ইউনিয়নে ৪৪টি, হরিদাসকাঠি ইউনিয়নে ৩৮টি, ভোজগাতী ইউনিয়নে ২৫টি এবং মণিরামপুর সদর ও ঢাকুরিয়া ইউনিয়নে ১৬টি করে ঘর রয়েছে। ঘর নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে টিন, সিমেন্টের খুঁটি, কাঠ ও ইট।
পিআইও অফিস বলছে, যাদের এক থেকে দশ শতক জমি আছে কিন্তু ঘর নেই বা ঘর থাকলেও তা বসবাসের অনুপযোগী এমন তিনশ দুস্থ ও অসহায় পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ব্যয়ে ৩০০টি ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। আর এসব কাজের দেখভাল করছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়গুলোর চেয়ারম্যানরাসহ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। ইতিমধ্যে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ঘর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। ইউনিয়নগুলোতে শিগগির আরো ৩৬১টি ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। অন্য ইউনিয়নগুলোর তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। ধারাবাহিকভাবে এই কাজ পৌর এলাকাসহ বাকি দশটি ইউনিয়নে শুরু হবে।
এদিকে, যারা সরকারিভাবে ঘর পাচ্ছেন; তাদেরকে ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রাথমিক তালিকা তৈরিতে কিছু জনপ্রতিনিধি ঘরপ্রতি দশহাজার করে টাকা নিয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। সরেজমিন এই ব্যাপারে উপকারভোগীদের সঙ্গে আলাপ করে ঘটনার সত্যতা মিললেও ক্যামেরার সামনে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। আর জনপ্রতিনিধিরা বলছেন অভিযোগ সত্য নয়। কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।
জানতে চাইলে ঝাঁপা ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক মন্টু বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে কারো কাছ থেকে একটি টাকাও নিইনি।’
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের সদস্য সচিব ও মণিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইয়ারুল হক বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ৬৬১টি ঘর নির্মাণের জন্য ঢাকায় তালিকা পাঠিয়েছিলাম। তিনশ ঘর নির্মাণের কাজ শেষের দিকে। আশা করছি বাকি ৩৬১টি ঘর নির্মাণের কাজ দ্রæত শুরু হবে।’
অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইয়ারুল হক বলেন, ‘ঘর নির্মাণে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। আমি নিয়মিত তদারকি করছি। কেউ টাকা নিয়েছেন- এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’