ঘুষের জন্য পুলিশি নির্যাতন

আপডেট: 06:20:06 06/01/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে দুই লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের জন্য আবু সাঈদ (৩০) নামে এক যুবককে উল্টো করে ঝুলিয়ে বেদম পিটুনির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। অবশ্য অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করছেন। যদিও ঘটনা প্রকাশ হওয়ায় তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আদালতে হাজির না করে ওই যুবককে থানায় আটকে রেখে পৈশাচিক এ নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। পরে নগদ ৫০ হাজার টাকা পেয়ে তাকে থানা থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে সুবর্ণভূমির হাতে একটি ছবি আসে। সেখানে দেখা যায় এক যুবককে উল্টো করে ঝুলিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলও যে কোতয়ালী থানা, ছবিতে তাও স্পষ্ট। ঝুলন্ত ওই যুবকের পাশে সাদা পোশাকে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে রয়েছেন, যার প্যান্টে ওয়্যারলেস সেট ঝুলছে। নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা যুবকের নাম আবু সাইদ। আর এই অপকর্ম করেছেন কোতয়ালী থানার কথিত সিভিল টিমের সদস্য এসআই নাজমুল হোসেন ও এএসআই হাদিবুর রহমান। কিন্তু পুলিশের কোনো কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার না করায় সুবর্ণভূমিতে রিপোর্ট আপ করা হয়নি। পরে অন্য গণমাধ্যম কর্মীরা বিষয়টি খোঁজ-খবর নিতে থাকেন এবং ঘটনার সত্যতা পেয়ে স্ব-স্ব মিডিয়ায় রিপোর্ট পাঠান।
থানার একাধিক সূত্র জানায়, সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে আবু সাঈদ। তাদের বাপ-বেটার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। থানার কথিত সিভিল টিমের সদস্য এসআই নাজমুল হোসেন ও এএসআই হাদিবুর রহমান গত বুধবার সকালে অভিযান চালিয়ে আবু সাঈদকে ধরে থানায় আনেন। পরে তার কাছে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। দাবি করা ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় আবু সাঈদকে হাতকড়া পরানো অবস্থায় বেঁধে দুই টেবিলের মাঝে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ওই অবস্থায় তার ওপর চলে নির্যাতন। এক পর্যায়ে জীবন বাঁচাতে ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন সাঈদ। এর পর বুধবার রাতেই তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে এসআই নাজমুল ও এএসআই হাদিবুর তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এসআই নাজমুল হোসেন টেলিফোনে সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমি দুই দিন হলো ঢাকায় এসেছি। সাঈদ নামে কাউকে আটক বা ঘুষ আদায়ের সঙ্গে আমি জড়িত নই।’
এএসআই হাদিবুর রহমান বলেন, ‘এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। সাংবাদিকদের কেউ হয়তো ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’
ঘটনার ব্যাপারে সাঈদের পরিবার ভয়ে মুখ খুলছে না। তবে ওই পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একজন নিশ্চিত করেছেন, বুধবার পুলিশ সাঈদকে ধরে নিয়ে যায়। পরে মোটা টাকা ঘুষের বিনিময়ে সাঈদ মুক্তি পান।
কোতয়ালী থানার ওসি মো. ইলিয়াস হোসেন বৃহস্পতিবার দুপুরে সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন।’
তবে রাতে থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে, অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন