ঘুষের টাকাসহ গ্রেফতার মাদকদ্রব্যের ডিডি জেলে

আপডেট: 03:11:33 05/01/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতি দমন কমিশন কর্মকর্তাদের হাতে ঘুষের টাকাসহ গ্রেফতার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নাজমুল কবিরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আকরাম হোসেন তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এরআগে বুধবার সন্ধ্যার দিকে দুদক কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে মামলা দিয়ে কোতয়ালী থানায় সোপর্দ করে।
এদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আটক ওই কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘটনার দিন আরো ৮০ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করেন দুদক কর্মকর্তারা। এরমধ্যে ৩০ হাজার দুইশ টাকা ড্রয়ার এবং বাকি ৫০ হাজার টাকা স্টিলের আলমারি তল্লাশি করে জব্দ করা হয়; যা অবৈধভাবে উপার্জিত বলে ধারণা করছেন দুদুক কর্মকর্তারা।
মামলার বাদী দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এর সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, গত বুধবার দুদকের ঢাকা এবং যশোর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বাংলা মদ বিক্রেতা মোহাব্বত হোসেন টুটুলের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অপরাধে নাজমুলকে হাতেনাতে আটক করেন। টুটুলের নাভারন এলাকার বাংলা মদের দোকানের লাইসেন্স নাবায়নের জন্য গত বছরের ২৯ জুলাই নাজমুল কবিরের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু নাজমুল কবির তার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। পরে দুই লাখ টাকায় রফা হয়। এরই মধ্যে মোহাব্বত আলী দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে অভিযোগ করেন।
আবেদনের প্রেক্ষিতে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এর উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে প্রধান করে একটি ফাঁদদল গঠন করা হয়। এরপর ৩১ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনে অনুমিত চাওয়া হয়। অনুমতি পাওয়ার পর পরিকল্পনা মাফিক সভা করে ৩ জানুয়ারি নাজমুল কবিরকে হাতেনাতে ঘুষের টাকাসহ আটক করা হয়।
তিনি আরো জানান, ঘুষ নেওয়ার দুই লাখ টাকার বাইরেও নাজমুল কবিরের অফিসের ড্রয়ার এবং স্টিলের আলমারি থেকে আরো ৮০ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। ওই টাকা অবৈধভাবে উপার্জিত বলে মনে করেন তিনি। মামলাটি তদন্ত করবে দুদক। ঢাকা অফিস তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করবে।
কিন্তু নাজমুল কবির বলছেন, এই টাকা তার না। তিনি ঘুষ নেননি। তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে দুদক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আদালতে প্রমাণ হবে নাজমুল কবির অপরাধী কি-না।’

আরও পড়ুন