ঘুষের টাকা ফেরত

আপডেট: 07:38:57 31/01/2018



img

মাগুরা প্রতিনিধি : জেলা প্রশাসকের কাছে ধরা খেয়ে ঘুষের এক লাখ টাকা ফেরত দিলেন মাগুরা সদর উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী ফসিয়ার রহমান। উপজেলা পরিষদের জমিতে দোকান বরাদ্দের নামে তারই এক সহকর্মীর কাছ থেকে এ ঘুষের টাকা নিয়েছিলেন ফসিয়ার।
বুধবার বিকেলে মাগুরা জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে তার কার্যালয়ে এই ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী মনিরা খাতুন গত সেপ্টেম্বর ঘুষ দিয়েছিলেন একই অফিসের তৎকালীন অফিস সহকারী (বর্তমানে মাগুরা সদর উপজেলা পরিষদে একই পদে কর্মরত) ফসিয়ার রহমানকে।
মনিরা খাতুন জানান, মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে শহীদ আব্দুর রশিদ মার্কেটের সম্প্রসারিত অংশের একটি দোকান বরাদ্দ নেওয়ার জন্যে তিনি ফসিয়ার রহমানের সঙ্গে গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে যোগাযোগ করেন। এ সময় ফসিয়ার রহমান তার কাছে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। মনিরা খাতুন তাকে এক লাখ টাকা দেন। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক মুনিরা খাতুনকে যে দোকান ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে চুক্তি মূল্য মাত্র ‘২০ হাজার টাকা’ উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি মনিরা খাতুন বিষয়টি মাগুরার জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমানকে জানান। আজ বুধবার ফসিয়ার রহমানকে জেলা প্রশাসক নিজ কক্ষে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় তিনি ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। জেলা প্রশাসক তখনই ঘুষের টাকা ফেরত দিতে বলেন। কিছু সময় পর মনিরা খাতুরকে এক লাখ টাকা ফেরত দেন ফসিয়ার।
মনিরা খাতুন আরো জানান, জেলা প্রশাসক চুক্তি মূল্য ২০ হাজার টাকা রেখে অতিরিক্ত ৮০ হাজার টাকা ফেরত দিতে বলেছিলেন। কিন্তু ফসিয়ার রহমান পুরো এক লাখ টাকাই ফেরত দিয়ে দেন।
মাগুরা জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ বিষয়ে ফসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে ফসিয়ার রহমান দাবি করেন, সহকর্মী মনিরা খাতুন ঘর পাওয়ার জন্য জোর করে তাকে টাকা দিয়েছিলেন। এর সঙ্গে অন্যদের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও টাকা যেহেতু তিনি নিয়েছিলেন, সে কারণে নিজে দায়ভার নিয়ে টাকা ফেরত দিয়েছেন।

আরও পড়ুন