চট্টগ্রামে ‘অপহৃত’ কিশোরী মণিরামপুরে উদ্ধার

আপডেট: 05:14:11 11/02/2019



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : অপহরণের শিকার শারমিন নামে এক তরুণীকে মণিরামপুরে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে থানা পুলিশ শহরের তাহেরপুর থেকে তাকে উদ্ধার করে।
শারমিন চারদিন আগে চট্টগ্রামের চকরিয়া থেকে অপহৃত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অপহরণকারীরা তাকে ভারতে ঝিয়ের কাজ দেওয়ার কথা বলে মণিরামপুরে নিয়ে আসে। মণিরামপুরে এসে ওই চক্রের আচরণে সন্দেহ হলে স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষিকার কাছে আশ্রয় চান শারমিন। পরে শিক্ষিকা ডলি আক্তার তাকে উদ্ধার করে থানা পুলিশে সোপর্দ করেন।
শারমিন চট্টগ্রামের চকরিয়া উপজেলার বানিয়াছাড়া গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। চার বছর আগে স্থানীয় হাসান নামে এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর হাসান তাকে তালাক দেন।
তাকে অপহরণের অভিযোগে পুলিশ মণিরামপুর শহর থেকে আব্দুর রহমান ও রুবেল নামে দুই যুবককে আটক করেছে।
আব্দুর রহমান পৌর এলাকার তাহেরপুরের ওয়াজেদ মাস্টারের ছেলে। বাসার পাশে তার একটি দোকান রয়েছে। আর রুবেল একই এলাকার মোস্তাকের ছেলে। তিনি পেশায় পল্লী বিদ্যুতের জুনিয়র প্রকৌশলী।
স্কুলশিক্ষিকা ডলি আক্তার জানান, রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাসা থেকে বেরিয়ে মোবাইল ফোন রিচার্জ করতে দোকানে আসছিলেন তিনি। ওই সময় রাস্তার পাশে শারমিনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন তিনি। শারমিন তার কাছে চট্টগ্রামে যাওয়ার গাড়ি ঠিক করে দিতে বলেন। ওই রাতে গাড়ি পাওয়া যাবে না জানিয়ে শারমিনের কাছে বিষয়টি জানতে চান তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শারমিন তাকে অপহরণের বিষয়টি খুলে বলেন। তখন শিক্ষিকা ডলি তাকে উদ্ধার করে নিজ বাসায় নিয়ে যান। এরপর থানা পুলিশে খবর দিলে রাত ১২টার দিকে পুলিশ শারমিনকে থানায় নিয়ে যায়।
শারমিন জানান, চারদিন আগে নিজ গ্রামের এক নারী তাকে ভারতে কাজ দেবে বলে প্রথমে যশোরে আনে। তারপর রোববার দুপুরে তাকে নিয়ে মণিরামপুরে আসে ওই নারী। মণিরামপুরে আসার পর স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে ওই নারীকে আড়ালে কথা বলতে দেখে সন্দেহ হয় তার। পরে শিক্ষিকা ডলির কাছে সাহায্য চাইলে তিনি সহযোগিতা করেন।
মণিরামপুর থানার এসআই খান আব্দুর রহমান জানান, তাহেরপুর এলাকার মৃত এনায়েত মুহুরির ছেলে মোস্তাক এই মেয়েটিকে অপহরণে জড়িত বলে পুলিশ প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। মোস্তাকের তিন স্ত্রী। তারমধ্যে দ্বিতীয়জন যশোরে থাকেন। আর তার ছোট স্ত্রী ভারতে থাকেন। মণিরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের ফুঁসলিয়ে ভারতে নিয়ে বিক্রি করেন তার ছোট বউ। শারমিনকে কাজ দেওয়া হবে বলে এক নারী তাকে সঙ্গে এনেছিলেন। প্রথমে তিনি ওই কিশোরীকে নিয়ে যশোরে মোস্তাকের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় ওঠেন। পরে রোববার দুপুরে শারমিনকে মণিরামপুরে আনে চক্রটি।
‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে থানায় আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, শারমিনকে অপহরণের সাথে চার-পাঁচজন জড়িত। এই ঘটনার পর থেকে মোস্তাক পলাতক রয়েছে,’ বলেন পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান।

আরও পড়ুন