চলে গেলেন মাহফুজ উল্লাহ

আপডেট: 02:13:21 27/04/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকাল দশটার দিকে (ব্যাংকক সময় ১১টা পাঁচ মিনিট) তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। মরহুমের বড় মেয়ে মুসাররাত হুমায়রা অঙ্গনার বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।
আগামীকাল (রবিবার) অথবা সোমবার মরদেহ দেশে আনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন, তিনি বেঁচে আছেন। মাহফুজ উল্লাহ বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন। টেলিভিশনের টকশোতে নিয়মিত দেখা যেত তাকে।
কার্ডিয়াক সমস্যার কারণে গত ২ এপ্রিল ৬৯ বছর বয়সী মাহফুজ উল্লাহকে দেশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার ফুসফুসে পানি জমে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১০ এপ্রিল হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে থাই এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজে তাকে ব্যাংককে নেওয়া হয়।
তিনি বিএনপির থিংকট্যাংকের অন্যতম একজন ছিলেন। ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতি করতেন। ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্র অবস্থায় সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। ১৯৭২ সাল থেকে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় কাজ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ও ১৯৭৪ সালে সাংবাদিকতায় আবার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
গুণী এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট নামে একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
গত বছরের নভেম্বরে মাহফুজ উল্লাহ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবনীগ্রন্থ লেখেন, যার নাম ‘বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ হার স্টোরি’। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে তিনি বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৫০টির বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী, যাদুর লাউ, যে কথা বলতে চাই, অভ্যুত্থানের ঊনসত্তর, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন: গৌরবের দিনলিপি (১৯৫২-৭১), উলফা অ্যান্ড দ্য ইনসারজেন্সি ইন আসাম।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন