চাকরির প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা হাতানোর অভিযোগ

আপডেট: 01:26:45 10/09/2017



img
img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : পত্রিকায় আকর্ষণীয় বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান করে একটি চক্র হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে র়্যাব ও গোয়েন্দা বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
বেকার এসব নারী পুরুষ জানান, সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক একটি পত্রিকায় গত ১০ আগস্ট তারিখে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার অনুমোদিত আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে উপজেলা মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা, যশোর, বাগেরহাট, নড়াইল ও খুলনা জেলার প্রতিটি থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পুষ্টি, মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র, কৃষি, নার্সারি ও বনায়ন, পরিবার পরিকল্পনা ডেনমার্কের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা মা ও শিশু স্বাস্থ্য কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি পুরুষ ও নারীদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা যাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে থানা ব্যবস্থাপক পদে ১৯ জন (বেতন মাসিক ১৯ হাজার টাকা),
অফিস সহকারী পদে ৫২ জন (বেতন১২ হাজার টাকা), ইউনিয়ন পরিদর্শক পদে ৭৮ জন (বেতন ১৪ হাজার টাকা), প্রোগ্রাম অফিসার পদে ৩৯ জন (বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা) এবং স্বাস্থ্যকর্মী পদে ১২০ জন (বেতন প্রতিমাসে দশ হাজার ৫০০ টাকা) নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে ২০ আগস্টের মধ্যে ১৬৬, মজিদপুর, সাভার, ঢাকা-১৩৪০ ঠিকানায় বিধি মোতাবেক ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ফটোকপি ও নাগরিক সনদ/জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটো কপিসহ আবেদন করতে বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে একটি ফোন নম্বরও (০১৮২৯৮৮৬৭৭৯) দেওয়া হয়।
আবেদনের সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ঢাকার সাভারের ওই অফিস থেকে নিজকে রিয়া পরিচয় দিয়ে ০১৭৯০৭৩৩২৪১ নম্বর মোবাইল ফোন থেকে প্রত্যেক আবেদনকারীর সঙ্গে কথা বলে তাদের 'চাকরি হয়েছে' বলে নিশ্চিত করেন এক নারী। তিনি আবেদনকারীদের জানান, দু-এক দিনের মধ্যে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নিয়োগপত্র পাবেন। নিয়োগপত্র পাবার আগে অফিস খরচ বাবদ ০১৭১৫৯৯০৬০৯ নম্বর মোবাইল ফোনে বিকাশের মাধ্যমে ৬৫০ টাকা পাঠাতে বলা হয়।
চাকরি প্রার্থী প্রত্যেকেই ওই নাম্বারে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পাঠিয়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস থেকে নিয়োগপত্র উত্তোলন করেন। নিয়োগপত্রে ১০ সেপ্টেম্বর কাজে যোগদান করতে বলা হলেও কোথায় কোন অফিসে যোগদান করতে হবে তা উল্লেখ করা হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে ৯ সেপ্টেম্বর নিয়োগপত্র নিয়ে প্রার্থীরা মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ঠিকানা জানার জন্য সাংবাদিকদের কাছে ফোন করেন। তারা সরকারি মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়েও ঠিকানা ম্যানেজ করতে না পেরে ঢাকার সাভারের ওই অফিসের নাম্বারে ফোন করলে বিকাশ নাম্বারটি ছাড়া অন্য দুটি নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে, তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলার আট উপজেলা ও ৭৮টি ইউনিয়ন, যশোর জেলার আট উপজেলা ও ৯২টি ইউনিয়ন, বাগেরহাট জেলার নয় উপজেলা ও ৭৭টি ইউনিয়ন, নড়াইলের তিন উপজেলা ও ৩৭টি ইউনিয়ন এবং খুলনার নয় উপজেলা, পাঁচটি মেট্রোপলিটন থানা, সিটি কর্পোরেশনের ৩১ ওয়ার্ড ও ৭৪টি ইউনিয়ন থেকে পাঁচটি পদে কয়েক হাজার বেকার ব্যক্তি আবেদন করেন। প্রত্যেক আবেদনকারীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে ৬৫০ টাকা করে। সূত্র জানায়, ৩৫৮টি ইউনিয়ন, ৩৬টি উপজেলা ও পাঁচটি মেট্রোপলিটন থানা থেকে কমপক্ষে চার হাজার বেকার যুবক আবেদন করে। প্রত্যেকের কাছে নিয়োগপত্র পাঠিয়ে চক্রটি হাতিয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা।
এদিকে, ঢাকার সাভারের সেই অফিসে হিসাব বিভাগের ০১৭১৫৯৯০৬০৯ নম্বর মোবাইল ফোনে বারবার রিং করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি। রিয়া পরিচয়দানকারীর ০১৭৯০৭৩৩২৪১ এবং অফিসের ০১৮২৯৮৮৬৭৭৯ নাম্বারের ফোন দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। এর আগে তার নাম্বারটি খোলা ছিল বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এ ধরনের কোনো নিয়োগ সম্পর্কে আমার জানা নেই। সাতক্ষীরায় ওই ধরনের কোনো অফিস আছে কিনা তাও আমার জানার বাইরে।'
বেসরকারি সংস্থা আরা'র নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম বলেন, 'পত্রিকায় লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে একটি চক্র এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।'
তিনি এব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আরও পড়ুন