চামড়ার বাজারে ধস, পাচার ঠেকাতে তৎপর বিজিবি

আপডেট: 01:44:58 03/09/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরাঞ্চলে চামড়াবাজারে ধস নেমেছে। বাজারে কার্যত চামড়াও নেই। ভয়াবহ দরপতনের কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের চোরা পথ দিয়ে ভারতে চামড়া পাচারের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।
পাচাররোধে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চামড়ার দাম পুনঃনির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও বিজিবি বলছে, চামড়া পাচার ঠেকাতে তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবছর ট্যানারি মালিকরা চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছেন একেবারে কম। ট্যানারি মালিক সিন্ডিকেটের বেঁধে দেওয়া দামে চামড়া বেচাকেনা হলে কুরবানিদাতা, মাদরাসা, এতিমখানাগুলো ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে।
খুচরা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অবশ্য নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনে মজুদ করে রাখছেন। তারা স্থানীয় বাজারে চামড়া না তুলে নিজস্ব কায়দায় তা সংরক্ষণ করে করছেন। এই চামড়া বাংলাদেশে রাখা সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ পাশের দেশ ভারতে চামড়ার দাম অনেক বেশি। ফলে চোরাকারবারিরা চামড়া পাচারের চেষ্টা করবেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের চাহিদার মোট চামড়ার মধ্যে কুরবানি ঈদে ৪০ শতাংশ সংগ্রহ করা হয়। বাকি ৬০ শতাংশ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ হয় বছরজুড়ে। চামড়া ব্যবসায়ীদের মতে, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের পশুর চামড়ার গুণগত মান উন্নত। প্রতিবেশী দেশের পশুর চামড়া তুলনামূলক নি¤œমানের হওয়ায় এদেশি চামড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ভারতে। চোরাকারবারিরা প্রতিবেশী দেশে চামড়া পাচার করে ওই অর্থ দিয়ে ভারত থেকে অন্যান্য মালামাল কিনে আনার চেষ্টায় থাকে। কুরবানি ঈদের সময় পশুর চামড়ার দাম বাস্তবসম্মতভাবে নির্ধারণ করা হলে পাচারের প্রবণতা কমে। পাশাপাশি স্বস্তিতে থাকেন ব্যবসায়ীরাও।
দাম কম হলেও বাংলাদেশ থেকে যাতে চামড়া পাচার না হয়, তার জন্য দরকারি পদক্ষেপ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।
যশোর ২৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল হক বলেন, ‘চামড়া পাচাররোধে সীমান্তে কড়া সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। ফলে পাচারকারীরা সুবিধা করতে পারবে না। হাটগুলো থেকে ব্যবসায়ীরা যাতে চামড়া ফেরত নিয়ে আসতে না পারেন, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রধান সড়ক ছাড়া কোনো আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে চামড়া পরিবহনও ঠেকাতে বিজিবি সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন