চাল আনতে এলসি পাঠানো ব্যবসায়ীদের কী হবে

আপডেট: 06:33:21 14/09/2017



img
img
img

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে চাল রপ্তানিতে ভারত সরকারের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন পেট্রাপোল বন্দরে পৌঁছেছে। কাল ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হবে। চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে ইতিমধ্যে যারা এলসি খুলেছেন, তারা চাল আনতে পারবেন কি-না, তা নিশ্চিত নয়।
ফলে সংকটের সময় ভারত থেকে বাংলাদেশে চাল (নন বাসমতি) আমদানি বন্ধ হয়ে গেল। দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি চাল আসতো।
চলতি বছর প্রথম দফায় হাওরাঞ্চলে বন্যা, দ্বিতীয় দফায় দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা দেশে চালের উৎপাদনে গুরুতর ক্ষতি করে। দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা যশোর প্রয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি চাল উৎপাদন করে। এই জেলার বড় অংশও (ভবদহ-সংলগ্ন) এবারের বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার শিকার হয়। ফলে চালের উৎপাদন এখানেও কমেছে। সংকটের কারণে দেশে চালের দাম বাড়তে থাকে হু হু করে। সরকার ও ব্যবসায়ীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানির চেষ্টা করে চলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভারত সরকার সে দেশে সংকটের অজুহাতে বাংলাদেশে চাল রপ্তানি বন্ধের নির্দেশ দেওয়ায় আরো বিপাকে পড়তে চলেছে বাংলাদেশ।
সীমান্তের ওপারের রফতানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে চাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত সরকার। নয়া দিল্লি থেকে জারি করা এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন পেট্রাপোল কাস্টমস দপ্তরে এসে পৌঁছেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ফরেন ট্রেড (উবাবষড়ঢ়সবহঃ ্ জবমঁষধঃরড়হ অপঃ ১৯৯২ ঘড়.২২ ড়ভ ১৯৯২) ফরেন ট্রেড পলিসি ২০১৪-২০১৯ অনুযায়ী ডাইরেক্টর জেনারেল অব ফরেন ট্রেড অলোক চতুর্বেদি স্বাক্ষরিত নোটিফিকেশন নম্বর ৭১ (আরই-২০১৭)/২০১৪-২০১৯-এ আদেশ জারি করা হয় ১২ সেপ্টেম্বর।  এই আদেশ আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চাল আমদানির জন্য বাংলাদেশি যে সব ব্যবসায়ী এর আগেই এলসি খুলেছেন, তাদের অর্ডার দেওয়া চাল আসবে কি-না নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘ভারত থেকে যে হারে চাল বাংলাদেশে রপ্তানি হচ্ছে, তাতে আমাদের দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। এজন্য কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চাল রপ্তানি বন্ধ করতে একটি চিঠি পেট্রাপোল কাস্টমসে পাঠিয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত থেকে নন বাসমতি চাল রপ্তানি হবে না।’
বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টম কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা গোলাম মাওলা বলেন, ‘ভারত থেকে প্রতিদিন প্রচুর চাল আমদানি হচ্ছে। আজও আমদানি হয়েছে। কিন্তু ভারত সরকার চাল রপ্তানি বন্ধ করেছে মর্মে কোনো চিঠিপত্র আমরা পাইনি।’
বেনাপোলের চাল আমদানিকারক হাজী মুছা করিম অ্যান্ড সন্সের মালিক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘ভারত সরকার খুব তাড়াতাড়ি চাল রপ্তানি বন্ধ করবে বলে লোকমুখে শুনেছি। ভারত থেকে এখনো কোনো রপ্তানিকারক তাদের জানাননি। চাল আমদানি বন্ধ হলে ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়বেন।’
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, ভারত সরকার প্রায়ই রপ্তানির ক্ষেত্রে এ রকম আচরণ করে থাকে। এর আগেও চাল, পেঁয়াজ, পাট নিয়ে একই কা- ঘটিয়েছে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে সরকারের উচিত অন্যান্য দেশ থেকেও চাল আমদানি করা।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) রেজাউল করিম বলেন, ‘ভারত থেকে প্রচুর চাল আসছে। কিন্তু বন্ধের কোনো খবর আমরা পাইনি। খালাসের অপেক্ষায় বন্দরে চালভর্তি প্রায় ২০০ ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। গত ১ আগস্ট থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৫৯ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন চাল বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে।’
বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. শওকাত হোসেন জানান, আমদানি করা চাল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত খালাস দেওয়া হচ্ছে। ভারত থেকে চাল রপ্তানি বন্ধের কোনো নির্দেশনা আমরা হাতে পাইনি। ফলে এ ব্যাপারে আমাদের বলারও কিছু নেই।’

আরও পড়ুন