চিংড়ি ও কাঁকড়া খাওয়া যাবে?

আপডেট: 02:20:10 27/11/2017



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ইসলাম বিষয়ক এনটিভির জীবনঘনিষ্ঠ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
আপনার জিজ্ঞাসার ৫২১তম পর্বে চিংড়ি ও কাঁকড়া খাওয়া হারাম কি না, সে সম্পর্কে লালমাটিয়া থেকে টেলিফোনে জানতে চেয়েছেন ফকরুল আলম। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা।
প্রশ্ন : আমরা এতো দিন জেনে এসেছি কাঁকড়া ও চিংড়ি খাওয়া মাকরুহ। কিন্তু আমেরিকা প্রবাসী আমাদের এক আত্মীয় মিসরীয় একটি সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন যে, না, কাঁকড়া ও চিংড়ি খাওয়া হারাম। তিনি অনেক যুক্তি দেখিয়েছেন; তার মধ্যে অন্যতম হলো, যে প্রাণী পা দিয়ে ধরে মুখ দিয়ে খায়, সেই প্রাণী হারাম। যেহেতু চিংড়ি এবং কাঁকড়া দুইটাই পা দিয়ে ধরে মুখ দিয়ে খায়, সুতরাং এটি হারাম। এই ব্যাপারে আপনার ফয়সালা চাই।
উত্তর : এই ভাই আসলে কাঁকড়া এবং চিংড়ি দুইটাকে একই পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। হুকুমের দিক থেকে এই দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, এটি নিয়ে আলেমদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। এই মাস’আলার মধ্যে মূলত ইজতিহাদ এবং ইখতিলাফ দুটিই হয়েছে। ইজতিহাদ হচ্ছে গবেষণা এবং ইখতিলাফ হচ্ছে মতবিরোধ। দুটিই এই মাস’আলার মধ্যে হয়েছে।
এটি আসলে দীর্ঘ আলোচনার বিষয়। নবী (সা.) এ বিষয়ে যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, মূল কথা বলেছেন, আমরা সেটিই গ্রহণ করবো। নবী (সা.)-কে যখন এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তখন তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘সমুদ্রের পানি তোমাদের জন্য পবিত্র। সুতরাং পবিত্রতার যত কাজ আছে, প্রত্যেকটি কাজেই তোমরা সমুদ্রের পানি ব্যবহার করতে পারবে, এর মাধ্যমে তোমরা তাহারাত হাসিল করতে পারবে এবং সমুদ্রের যত প্রাণী আছে সব তোমাদের জন্য হালাল।’
সুতরাং, চিংড়ি, কাঁকড়া এরমধ্যে প্রথমেই আসবে। এইজন্য বিশুদ্ধ বক্তব্য হচ্ছে, চিংড়ি এবং কাঁকড়া দুটিই হালাল, দুটিই বৈধ, দুটিই খাওয়া জায়েজ। তবে, এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ আছে, দীর্ঘ আলোচনাও আছে।
সূত্র : এনটিভি