চুরির দায় শিক্ষকদের!

আপডেট: 07:37:17 04/04/2018



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ভবনের তৃতীয় তলায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তালা ভেঙে দেড় লক্ষাধিক টাকা চুরির দায় নিতে হলো ৬০ মাদরাসাশিক্ষককে। ফলে ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা নেওয়ার ছয় মাস পর প্রাপ্য অর্থের অর্ধেক নিয়ে শিক্ষদের বাড়ি ফিরতে হয়।
গত ৬ মার্চ দিনগত রাতে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ভবনের তৃতীয় তলায় কলাপসিবল গেট ভেঙে দেড় লক্ষাধিক টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। নৈশপ্রহরী ও সিসি টিভি ক্যামেরার নিñিদ্র নিরাপত্তার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জীবননগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পুলিশ দুই নৈশপ্রহরীকে আটক করে। এরপর ওই দুইজনকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজার নির্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই সময় জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, রাতে উপজেলা পরিষদের তৃতীয় তলায় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রশিদুল ইসলামের কক্ষের তালা ভেঙে নগদ ১২ হাজার ৯৮২, হিসাব সহকারী জান্নাতুল কোবরার কক্ষ থেকে এক লাখ এক হাজার ও অফিস সহকারী আব্দুল খালেকের কক্ষ থেকে ৩৮ হাজার ৮৬০ টাকা চুরি হয়েছে।
এদিকে, গত নভেম্বর মাসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় একই কেন্দ্রে কক্ষ পরীক্ষকদের দায়িত্বসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালনকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দিনের দিনই তাদের পারিশ্রমিক নিয়ে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে পরীক্ষার ৫ মাস পর মাদরাসার ইবতেদায়ি বিভাগের শিক্ষকদের গত ৭ মার্চ টাকা নিতে আসতে বলা হয়। শিক্ষকরা ওই দিন সকাল এসে শোনেন তাদের টাকা চুরি হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৬০ জন মাদরাসাশিক্ষককে তাদের প্রাপ্য অর্থের অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু চুরি করা অর্থ উদ্ধার করা যায়নি, তাই অভিযুক্ত নৈশপ্রহরীরদের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। টাকা চুরির দায় কেনো শিক্ষকরা নেবেন?- এমন প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি।

আরও পড়ুন