চুয়াডাঙ্গার ড্রাগ সুপারকে অপসারণের দাবি

আপডেট: 05:29:59 13/04/2018



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গায় ড্রাগ সুপারকে সাতদিনের মধ্যে অপসারণের দাবি জানিয়েছে সদর উপজেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি।
আজ শুক্রবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন সমিতির নেতারা।
সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়েন সমিতির দপ্তর সম্পাদক মো. শাহজাহান। এসময় কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি আব্দুল মজিদ জিল্লু, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ, সহসভাপতি আবু সাদিকুজ্জামান ও রফিকুল ইসলাম, সহসম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম তপু, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুল হক, সদস্য আশাদুজ্জামান, ডালিম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ‘বর্তমান ড্রাগ সুপার সুকর্ণ আহমেদ চুয়াডাঙ্গায় যোগদানের পর থেকে সমিতি ও ওষুধ ব্যবসায়ীদের অপমানিত, নাজেহাল ও আর্থিক দণ্ড দেওয়ার খেলায় মেতেছেন। ফলে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সাথে তার দূরত্ব বেড়ে তলানিতে দাঁড়িয়েছে। এরই প্রতিবাদে গত ১২ এপ্রিল বিকেল তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা শহরে সকল ওষুধের দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানানো হয়।’
অভিযোগ করা হয়, ওষুধ ব্যবসায়ীরা ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলে অফিস খরচ বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা নেওয়া হয়। টাকা না দিলে লাইসেন্স নবায়ন করা হয় না। ফুড সাপ্লিমেন্ট ওষুধের দোকানে বিক্রি অবৈধ হলেও তা মাসিক মাসোহারা নিয়ে বৈধতা দিয়েছেন তিনি। আবার ওই ওষুধ ফর্মেসিতে রেখে বিক্রি করলে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোটা অংকের জরিমানা আদায় করাচ্ছেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় সমিতির একজন প্রতিনিধি রাখার কথা থাকলেও তা তিনি করতে দিচ্ছেন না। ড্রাগ সুপারের নিয়মিত ওষুধ ফার্মেসি পরিদর্শন করার কথা থাকলেও তিনি সেটা না করে সপ্তাহের প্রায় দিন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে তার গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করেন। চুয়াডাঙ্গায় লাইসেন্সবিহীন ও মুদি দোকানে ওষুধ বিক্রি হলেও তিনি উৎকোচের বিনিময়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।’
পরে যোগাযোগ করা হলে সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন ড্রাগ সুপার সুকর্ণ।
তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। এ কারণে ওষুধ ব্যবসায়ীরা ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নিতে না পেরে আমাকে টার্গেট করে এ সংবাদ সম্মেলন করেছে। ওষুধ ব্যবসায়ীদের নিয়মকানুন মেনে ব্যবসা করার কথা বললে তারা তা শোনে না। কোনো সমস্যায় পড়লে আমার ওপর দায় চাপায়।’
গত ১১ এপ্রিল বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কের পাঁচটি ওষুধের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানকালে ওই পাঁচটি দোকানের মালিককে মোট ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক ঘণ্টা শহরের সব ওষুধের দোকানে ধর্মঘট পালন করা হয়।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী রোববার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের মধ্যদিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আরও পড়ুন