চুয়াডাঙ্গায় আলুর ক্রেতা নেই, চাষিদের মাথায় হাত

আপডেট: 07:38:16 04/04/2018



img
img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গা জেলায় আলুর দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। যদিও জেলার চার উপজেলার মধ্যে তিনটিতেই চলতি বছর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল দুই হাজার ৩৩ হেক্টর জমিতে। বিপরীতে অর্জিত হয়েছে এক হাজার ৯৫০ হেক্টর। শুধু জীবননগর উপজেলায় চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়। কম জমিতে চাষ করা সত্তে¡ও বাজারে আলুর দামও নেই, ক্রেতাও নেই।
জীবননগরে আলু চাষের প্রধান এলাকা হাসাদাহ, বাঁকা ও রায়পুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা জমি থেকে আলু তুলে এনে বাড়ির আঙিনায় স্তূপ করে রাখছেন। কিন্তু ক্রেতার অভাবে বিক্রি করতে পারছেন না।
উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের নতুন চাকলা গ্রামের মরহুম দাউদ হোসেনের ছেলে সেলিম হোসেন (৪৭) জানান, তিনি পৌনে দুই বিঘা জমিতে ডায়মন্ড জাতের আলু চাষ করেছিলেন। পেয়েছেন প্রায় ২০০ মণ আলু। কয়েকদিন ধরে বাড়িতে বসে আছেন। কিন্তু ক্রেতা পাচ্ছেন না।
একই গ্রামের ইমদাদুলের ছেলে জসিম উদ্দীন (৩০) একই সমস্যার কথা জানান।
তিনি বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। ফলনও ভালো পেয়েছেন। কিন্তু অনেক চেষ্টার পর একজন ক্রেতাকে ম্যানেজ করে সাড়ে ৬০০ টাকা কুইন্টাল (৮৫ কেজিতে দুই মণ, অর্থাৎ প্রতি দুই মণে পাঁচ কেজি ফ্রি) দরে আলু বিক্রি করছিলেন। অর্ধেক আলু ওজনের পর ওই ক্রেতার কাছে ফোনে আলুর দাম পড়ে যাওয়ার খবর আসে। তখনই তিনি আলু নিতে অস্বীকার করেন।
একই অবস্থা ওই গ্রামের আবুল আহসানের ছেলে বড় আলু চাষি সাইফুল (৩৫) ও মোতালেবের ছেলে ইউপি সদস্য তরিকুলের (৪৭)। তাদের বাড়িতে আলু রাখার জায়গা নেই। তাই বাড়ির সামনে বিরাট বিরাট স্তূপ করে আলু রাখা হয়েছে। বৃষ্টি হলে ভয়ানক বিপাকে পড়বেন তারা।
আরো জানায়, প্রতি বিঘা জমিতে আলু উৎপাদন করতে তাদের খরচ হয়েছে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা। আর ক্রেতা পেলে বিক্রি হচ্ছে ২৪-২৬ হাজার টাকায়। এর মধ্যে আলু তুলতে আবার প্রতি বিঘায় খরচ হচ্ছে প্রায় দুই হাজার টাকা। তারপরও আলুর ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।
জীবননগরের প্রায় ৯০ শতাংশ জমিতে ডায়মন্ড বারি-৭ জাতের সাদা আলুর চাষ হয়েছে। এখানকার মাটিতে ডায়মন্ড জাতের আলুর ফলন ভালো হলেও চুয়াডাঙ্গা এলাকায় সাদা আলুর চাহিদা বা ক্রেতা নেই। এখানকার মানুষ কার্ডিনাল বারি আলু-৮ জাতের লাল আলু মানুষ বেশি পছন্দ করে। তাই খুচরা বাজারে দেখা যায় সাদা (ডায়মন্ড) আলু প্রতি পাঁচ কেজির পাল্লা ৪০ টাকা দর হাঁকা হলেও ক্রেতা মিলছে না।
চাষিরা জানান, আলু হিমাগারে রাখতেও ভয় পাচ্ছেন তারা। কারণ গত বছর আলুর দাম না বাড়ার কারণে অনেকে খরচ ওঠাতে পারেননি। চুয়াডাঙ্গা জেলায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো হিমাগার নেই। সে কারণে আলু রাখতে চাষিদের যশোর বা ঝিনাইদহে যেতে হয়। সেখানে নিতে বেশ খরচ। আবার আলুর ভরা মৌসুমে যশোর-ঝিনাইদহের হিমাগারে স্থান সংকুলান হয় না।
এসব বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলার উপ-পরিচালক নাঈম আস সাকিব জানান, এ মৌসুমে সারাদেশে আলুর ফলন ভালো হওয়ায় ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। সময়মতো সংরক্ষণ করতে পারলে এ সংকট থাকবে না।
তিনি জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে এখানকার কৃষকদের সমস্যার কথা তুলে ধরে চুয়াডাঙ্গায় কৃষি পণ্য সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থে সরকার বিষয়টি বিবেচনা করলে এ অবস্থা আর থাকবে না।

আরও পড়ুন