চুয়াডাঙ্গায় চাষ হচ্ছে ‘মাস মিলন’ ফল

আপডেট: 11:17:26 13/07/2017



img
img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: দেশে প্রতি বছর ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকার গ্রীস্ম কালীন ‘মাস মিলন’ ফল আমদানী করা হয়। যার পুরোটাই আসে তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আমদানি নির্ভর এই ফলের কিছুটা হলেও বাজার দখল করতে সক্ষম হয়েছে চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়ার ‘এগ্রি কণসার্ন লিমিটেড ফার্ম। প্রষ্ঠিানটি দেশে প্রথম ১২ বিঘা জমিতে ‘মাস  মিলন’ ফলের আবাদ করছে। তাদের দেখাদেখি স্থানীয় কৃষকরাও অর্থকারী এ ফলটি চাষাবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গার এগ্রি কণসার্ন লিমিটেড ফার্মের দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক খাইরুল ইসলাম জানান, ড. শেখ আব্দুল কাদের গত ৭ বছর গবেষণার পর গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মাঠে গ্রীষ্মকালীন ‘মাস মিলন’ ফল চাষে সফল হয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকে এ ফলের উৎপাদন শুরু করা হয়।
তিনি আরো বলেন, মার্চ মাস থেকে চাষের প্রক্রিয়া শুরু হয়। জমি তৈরি শেষে এপ্রিলে চারা রোপন করলে মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে এর ফলন পাওয়া যায়। বিঘা প্রতি উৎপাদন হয় প্রায় আড়াই থেকে তিন মেট্রিক টন। চলতি বছর মাস মিলন ফল চাণ করে আশানুরুপ ফলন পাওয়া গেছে।
তিনি আরো বলেন, এ ফলের বাজার রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, রাজশাহী ও খুলনা। বিশেষ করে আর্ন্তজাতিক মানের হোটেল, রেস্তোরা ও বড় বড় ফাস্ট ফুডের দোকানে এ ফল বেশি চলে। ‘মাস মিলনের সঙ্গে অল্প দুধ, চিনি ও বরফ মিশিয়ে তৈরি এক গ্লাস ফ্রুটস জুস বিক্রি করা হয় ২শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকায়। আর এর ক্রেতাদের বেশির ভাগই বিদেশী ও উচ্চবিত্তরা।
এছাড়া রাজধানী ঢাকার চেইন শপ, ফলের দোকান থেকেও সাধারণ মানুষ ‘মাস মিলন’ কিনে থাকে। এর স্থানীয় বাজার মূল্যও অনেক ভাল। একটি ফল  এক হাজার থেকে এক হাজার ২শ’ টাকায় বিক্রি করা হয়।
খাইরুল ইসলাম আরো জানান, স্থানীয় কৃষকরা মাস মিলন চাষে উৎসাহ দেখাচ্ছেন। এই ফলের চাষ বৃদ্ধি করতে আগামীতে কর্তৃপক্ষ কৃষকদের মাঝে এর বীজ অবমুক্ত করবেন বলে তিনি জানান।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাশরুর বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা মাঝারি উচু প্রকৃতির। এ জেলায় ‘মাস মিলন’ ফল চাষাবাদের উপযোগী আবহাওয়াও বিরাজমান। দেশে নতুন এ ফলের বাজার রয়েছে; সেকারনে এ ফল আবাদে কৃষকরা এগিয়ে আসতে পারেন।
তবে তার আগে কৃষকদের বাজার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেবার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন