চুয়াডাঙ্গায় ধানবীজ নিয়ে নয়ছয়, ক্ষুব্ধ চাষি

আপডেট: 05:16:02 02/12/2017



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গায় বিএডিসির বীজ বিতরণে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দশ হাজার একর জমির বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ আবাদ শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার জন্য চাষিরা বিএডিসির কর্মকর্তা ও বীজ নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএডিসির কন্টাক্ট গ্রোয়ার্স জোন চুক্তিবদ্ধ চাষিদের মধ্যে গত সোমবার (২৭ নভেম্বর) বোরো বীজ বিতরণের দিন ধার্য করে। চাষিরা ওই দিন বীজ সংগ্রহের জন্য এলে কর্মকর্তারা তাদেরকে ‘পূর্ব বরাদ্দ অনুযায়ী বীজ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না’ বলে জানান। তারা চাষিদের বরাদ্দের ৬৫ শতাংশ হারে বীজ নিতে অনুরোধ করেন। এতে চাষিরা বেঁকে বসেন এবং উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ফলে কন্টাক্ট গ্রোয়ার্স জোনের বীজ বিতরণ কর্মসূচি শুরুতেই বাধাগ্রস্ত হয়।
কন্টাক্ট গ্রোয়ার্স জোনে দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ হাজার ৮০০ একর জমির উৎপাদিত বীজ চাষিদের মধ্যে বরাদ্দ হয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কথিত সিন্ডিকেট ও স্কিম ম্যানেজাররা ভুয়া কাগজপত্র দাখিল এবং চাষি সেজে বরাদ্দের বেশিরভাগ বীজ ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে সরবরাহ করে আসছেন।
চাষিদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের সদস্যরা সারা বছর বিএডিসির সবকটি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে। গত ২০১৬ সালে অতিরিক্ত দুই হাজার ৭০০ একর জমির অনুকূলে বীজ বরাদ্দের মধ্যে কন্টাক্ট গ্রোয়ার্স দপ্তরের কর্মকর্তারা ৯০০ এবং দুটি সিন্ডিকেটের সদস্যরা ৯০০ একর করে বীজ সরবরাহের বিষয়টি ভাগ বাটোয়ারা করে নেন। এ বছর অতিরিক্ত বরাদ্দ না এলেও সিন্ডিকেটের সদস্যরা গতবারের মতোই বীজ সরবরাহের দাবি করলে জটিলতার সৃষ্টি হয়।
অপরদিকে চাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণে গত মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়। কমিটির সদস্যরা ওইদিন কন্টাক্ট গ্রোয়ার্সের উপ-পরিচালক মোর্শেদুল ইসলামসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক থেকে দশ একর পর্যন্ত জমিতে বীজ আবাদকারী চাষিরা শতভাগ এবং তার অতিরিক্ত জমিতে আবাদকারী চাষিরা ৬৫ শতাংশ জমিতে চাষের জন্য বীজ পাবেন। কিন্ত, নতুন করে জটিলতা হওয়ায় তা ভেস্তে যায়।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলাতদিয়াড়ে বিএডিসি কন্টাক্ট গ্রোয়ার্স ও বীজ গ্রহণ দপ্তরের সামনে সমবেত চাষিদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নামে ৫০ টাকা, অফিস খরচ ৪২ টাকা ও সাংবাদিকদের নামে তিন টাকা করে মোট ৯৫ টাকা হারে বস্তাপ্রতি কেটে নেওয়া হয়। এ হিসেবে গত মৌসুমের ৫৭ লাখ টাকাসহ বিগত মৌসুমগুলোর টাকা কাকে কত দেওয়া হয়েছে তা প্রকাশ করার দাবি করেন চাষিরা।
প্রশ্ন করলে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজাদ মালিতা বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় বিএডিসির বীজ কেনা-বেচা চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো সাংবাদিককে টাকা-পয়সা দেওয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই। প্রেসক্লাবের সদস্যরা কখনো কোনো অবৈধ টাকা গ্রহণ করেন না।’
কন্টাক্ট গ্রোয়ার্স জোনের উপ-পরিচালক মোর্শেদুল ইসলাম বুধবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে সংকটের বিষয়টি বিস্তারিত জানান। জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ কর্মকর্তাদেরকে জানিয়ে দেন, নিয়ম মেনে কাজ করলে সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, কাগজ কলমে চাষি সেজে কন্টাক্ট গ্রোয়ার্সের সুবিধা নেওয়া নেতাদের তাড়িয়ে প্রকৃত চাষিদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩ ডিসেম্বর থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে প্রকৃত চাষিদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে বোরো ধান বীজ বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে লিপিবদ্ধ করা হবে কৃষকের পরিচয়।
জেলা প্রশাসক বলছেন, বীজ উৎপাদনসহ বিভিন্ন চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সুবিধা নিয়ে ধানের প্রদর্শনী খামারে বীজ উৎপাদন না করে সেই পরিমাণ ধান বাজার থেকে কিনে ‘ধান বীজ’ বলে চড়া দামে বেচার সুযোগও শক্ত হাতে বন্ধ করা হবে।

আরও পড়ুন