চুয়াডাঙ্গায় পাট নিয়ে বিপাকে চাষি

আপডেট: 01:40:01 08/10/2018



img
img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গায় পানির অভাবে পাট জাগ নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েছে কৃষকদের। নানান কারণে চুয়াডাঙ্গায় এবার পাটের আবাদ কমে গেছে। মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টির কারণে পাট আবাদ ব্যাহত হয়েছে বলে কৃষকরা বলছেন।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে এ জেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ২০ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে। হেক্টরপ্রতি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ দশমিক ৪ মেট্রিক টন পাট। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২২ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টরে ২ দশমিক ৪ মেট্রিক টন হিসেবে ৫২ হাজার ৬৬৮ টন উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছিল। কিন্তু আবাদ হয়েছে মাত্র নয় হাজার ৩৯৪ হেক্টর জমিতে।। পাট উৎপাদন হবে আনুমানিক ২২ হাজার ৫৪৫ টন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় এবার মাত্র ২৫০ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় তিন হাজার ৯৪ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় পাঁচ হাজার ২৫০ হেক্টর এবং জীবননগর উপজেলায় ৮০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদরের হাজরাহাটী গ্রামের মরহুম আজিজুর রহমানের ছেলে কৃষক হাবিবুর রহমান (৪২) জানান, তিনি গত বছর পৌনে দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলেন। উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১৫ মণ। পাট বিক্রি করে যে টাকা পেয়েছিলেন তা খরচের সমান হওয়ায় তিনি এ বছর পাটের আবাদ করেননি।
তিনি আরো জানান, এক সময় এ অঞ্চলে নিচু জমিতে পানি থই থই করতো। বর্তমানে বৃষ্টির অভাবে খাল-বিল, ডোবা-নালায় পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাট জাগ দিতে পারছেন না। ফলে পাট নিয়ে জেলার কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তারা নিরুপায় হয়ে পুকুর ও গর্তেও পাট জাগ দিচ্ছেন। অধিকাংশ কৃষক পাটের বিকল্প চাষ খুঁজছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, তিনি গত বছর দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলেন। পাটের বাজার খরচ অনুপাতে না পাওয়ায় দুই-তিন হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। সেই কারণে এ বছর পাটের আবাদ মাত্র ১৮ কাঠায় নামিয়েছেন। তার লক্ষ্য পাট নয়, পাটকাঠি; যা দিয়ে পানবরজের শলি ও খুঁটি হবে।
একই গ্রামের মুসাবের ছেলে কৃষক শান্তি জানান, এ বছর তিনি এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলেন। এখন পাট শুকানোর কাজ চলছে। তিনি ধারণা করছেন, ৭-৮ মণ পাট উৎপাদন হবে।
তিনি জানান, স্থানীয় বাজারে বর্তমানে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। এ টাকায় পাট বিক্রি করে লাভ পাওয়া যাবে না। পাটকাঠি বেচে বেশ কিছু টাকা আসবে।
কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, পাট ক্রয়কেন্দ্রগুলোতে পাট বেচতে গেলে বলা হয় নিম্নমানের। সঠিক দাম দিতে গড়িমসি করা হয়। একই পাট স্থানীয় ফড়িয়ারা কিনে দ্বিগুণ দামে ক্রয়কেন্দ্রে বেচেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরে উপ-পরিচালক নাঈম আস সাকীব জানান, এ জেলায় পাটের আবাদ কমে যাওয়ার কারণ ধানের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা ধানের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। পাটের উৎপাদন খরচ বেশি বাজারমূল্য কম এবং পাট জাগ দেওয়ার সমস্যার কারণে এ জেলায় পাট আবাদে অনীহা দেখিয়েছেন কৃষকরা।

আরও পড়ুন