চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া ডাক্তারের কারাদণ্ড

আপডেট: 03:22:52 14/07/2017



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কে নিউ জনতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত ভুয়া নিউরো সার্জন ডা. এমএস আলমকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সেবা প্রদানে অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেওয়ার দায়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক তৌহিদ হোসেন তোতাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদানের আদেশ দেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দার উপ-পরিচালক আবু জাফর ইকবালের অনুসন্ধানে এই জালিয়াতি ধরা পড়লে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার কিছু আগে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাপিয়া আক্তারের নেতৃত্বে সদর হাসপাতাল সড়কে নিউ জনতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালতকে সহযোগিতা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিব্বির আহমেদ ও পুলিশ সদস্যরা।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বারে বসা ডা. এমএস আলমের প্যাডে দেওয়া এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমআরসিএস (ইউকে), এফসিপিএস (সার্জারি) ও এমএস (নিউরো সার্জারি) পরিচয়ের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ হয় আদালতের। এ সময় ডা. এম এস আলমকে উল্লিখিত পদবীর প্রমাণ দিতে বলা হয়। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে ভুয়া এমএস (নিউরো সার্জারি) ডা. এমএস আলমকে মেডিক্যাল এবং ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর ২৯ (১) ও (২) ধারায় ভুয়া পদবী ব্যবহারের দায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে সেবা প্রদানে অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেওয়ার দায়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক তৌহিদ হোসেন তোতাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১৫দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দিলে জরিমানার টাকা পরিশোধ করে মুক্তি পান তোতা।
চুয়াডাঙ্গা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দার উপ-পরিচালক আবু জাফর ইকবাল অনুসন্ধান করে জানতে পারেন,  ডা.এম এস আলম ওরফে এএসএম আলম ওরফে আবু মো. শাকুরুল আলম সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের মরহুম শামসুল আলমের ছেলে। এ ধরণের ভুয়া পরিচয়ে দাপটের সঙ্গে শুধু চুয়াডাঙ্গায় নয়, ডজন খানেক জেলায় রয়েছে তার চেম্বার। কোথাও সাইনবোর্ড, ব্যানার, বিলবোর্ড, ভিজিটিং কার্ডে পদবী আর ডিগ্রি লিখে উল্লেখ করেছেন তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক। আবার কোথাও লিখেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক। তবে কোন তথ্যেরই সতত্যা মেলেনি। চেম্বারগুলোতে কোথাও লিখেছেন তিনি ডা. এমএস আলম আবার কোথাও লিখেছেন ডা. এএসএম আলম। সম্প্রতি, কুষ্টিয়ায় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এমন তথ্য দিয়ে সেখানে বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে রোগী দেখে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরও সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেলে এ ব্যাপারে সেখানকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ডা: এমএস আলম তার ভিজিটিং কার্ডে এমবিবিএস, এমআরসিএস (লন্ডন), এফসিপিএস (সার্জারি) এমএস (নিউরো সার্জারি) এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এভাবে দিনে পর দিন প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাম থেকে আসা সহজ সরল মানুষেরা। যারা চিকিৎসার জন্য শহরের বিভিন্ন নামিদামি ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এসে ভুয়া ডাক্তারের ধোকায় পড়ছেন প্রতিনিয়ত। এই ডাক্তার কুষ্টিয়া শহরের প্রধান ডাকঘরের সামনে সীম্যাক ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পপুলার ডায়াগনস্টিক ও নিউ অ্যাপলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকসহ বিভিন্ন ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখতেন।
শুধু কুষ্টিয়ায় নয় মাঝে মাঝে পাশ্ববর্তী আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা, গাংনীতেও রোগী দেখতেন তিনি। তবে এর আগে তিনি সনো হসপিটাল-২ তে নিয়মিত রোগী দেখতেন। সেখানে সহকারী অধ্যাপকের পরিচয় গোপন করে রোগী দেখতেন। বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে বের করে দেয় বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।
এ ছাড়া তিনি গত ১বছর ধরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কে নিউ জনতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুয়া পরিচয়ে বীরদর্পে রোগী দেখে আসছিলেন। রোগী প্রতি সাক্ষাত ফি ও ব্যবস্থাপত্র বাবদ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করতেন তিনি।

আরও পড়ুন