চেয়ারম্যান খুনের মামলায় দুই আসামি গ্রেফতার

আপডেট: 02:44:48 10/09/2018



img

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান কেএম মোশাররফ হোসেন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।
নিহত চেয়ারম্যানের মেয়ে সাদিয়া ইসলাম বাদী হয়ে রোববার রাতে মামলাটি করেছেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ এজাহারভুক্ত দুইজনকে আটক করেছে। তারা হলেন দশ নম্বর আসামি মোজাফফর হোসেন ও ১৪ নম্বর আসামি লাল্টু।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান জানান, উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান কেএম মোশাররফ হোসেন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় চেয়ারম্যানের মেয়ে সাদিয়া ইসলাম বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল গাইনকে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।
ওসি আরো জানান, চেয়ারম্যান হত্যার কারণ জানতে পুলিশ মাঠে নেমেছে। স্থানীয় সাপখালি খাল উন্মুক্ত করা নিয়ে তার সঙ্গে বিরোধ রয়েছে অনেকের। একই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল জলিলের সঙ্গে চরম বিরোধ চলছিল চেয়ারম্যানের। সম্প্রতি আবদুল জলিল বেশ কয়েকজনকে নিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন দক্ষিণ রঘুনাথপুর গ্রামের আবু মালাইকার বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। তিনি এলাকার লোকজনের জমি ও বাড়ি দখল করছেন।’
এ ছাড়া সম্প্রতি স্থানীয় মহসীন ডাকাতকে কে বা কারা কৃষ্ণনগর বাজারে কুপিয়ে জখম করে। মহসীন ডাকাত চেয়ারম্যান মোশাররফবিরোধী লোক। এলাকায় চেয়ারম্যানের সঙ্গে অনেকের রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। ওসি জানান, এসব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত কাজ চলছে।
শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে কৃষ্ণনগর বাজারে যুবলীগ অফিসে বসেছিলেন চেয়ারম্যান কেএম মোশারফ হোসেন। এ সময় পাঁচ ছয় যুবক তিনটি মোটরসাইকেলে এসে বাজারে কয়েকটি বোমা ফাটায়। এতে আতংকিত হয়ে দোকানপাট বন্ধের সুযোগে সন্ত্রাসীরা যুবলীগ অফিসে ঢুকে চেয়ারম্যানের গালে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে। এরপর সন্ত্রাসীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। কালিগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়ার পথে চেয়ারম্যান মারা যান। গতকাল বিকেলে নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়

আরও পড়ুন