চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

আপডেট: 03:35:58 13/09/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নে পৃথক ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানের হাতে নবীজ উদ্দিন নামে একজন এবং ইউপি সদস্য সালামকে চাঁদা না দেওয়ায় তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দুই সহোদর।
বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা দুটি ঘটে। আহত কামাল (৪৪) ও জামাল (৪২) শার্শা উপজেলার গোপীনাথপুর বটতলা গ্রামের হাবুল বেপারির ছেলে। আর নবীছ উদ্দিন (৪৮) পাকশী গ্রামের সুলতান খাঁর ছেলে। আহতদের স্থানীয় নাভারন বুরুজবাগান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
চিকিৎসাধীন দুই ভাই কামাল ও জামাল হোসেন জানান, তাদের বোন তহুরন নেছার জন্য সম্প্রতি একই গ্রামের আব্বাসের কাছে থেকে ১১ শতক জমি কেনা হয়। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা ও ইউপি সদস্য সালাম জমির মালিক আব্বাসকে জমি লিখে দিতে নিষেধ করেন। বলেন, ওখান থেকে তাকে চার শতক জমি বা এক লাখ টাকা দিতে হবে। এ টাকা ও জমি দিতে রাজি না হওয়ায় ইউপি সদস্য সালাম নিজে ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য আকরাম, বাদশা, সলেমান, সামারুলকে নিয়ে হামলা করে। বেদম মারপিটে আহত হন তারা দুই ভাই। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।
কামাল বলেন, ‘‘চোরাচালানি সালাম এভাবে এলাকায় নিরীহ জনগণের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে। তারা বলে, ‘আমরা এমপির লোক। তোরা বেনাপোল মেয়রের দল করিস। তোদের নির্বাচনের পর গ্রামে রাখব কিনা তা ভাবছি।’’
তবে যোগাযোগ করা হলে ইউপি সদস্য সালাম কাউকে মারপিট করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, ‘নিজেরাই ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে ওরা।’
অপরদিকে একই ইউনিয়নের পাকশি গ্রামের নবীছ উদ্দিন বলেন, মাঠে খেলা করার সময় একটি ক্রিকেট বল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন আলীর ভাইয়ের দোকানে পড়লে চেয়ারম্যান ডেকে তার ভাতিজা রনিকে মারপিট করেন। ভাতিজাকে মারার প্রতিবাদ করলে হোসেন চেয়ারম্যান তাকে আটকে বেধড়ক মারপিট করে সারা শরীর রক্তাক্ত করে দেন। এলাকায় হোসেন আলী চেয়াম্যান ও তার মেম্বারদের দাপটে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান হোসেন আলী বলেন, ‘আমি তাকে কোনো মারধর করিনি। ঘটনার এক ঘণ্টা পর আমি ঘটনাস্থলে যাই।’
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মশিউর রহমান বলেন, এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ তিনি পাননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন