চোখ বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

আপডেট: 06:45:13 10/01/2018



img

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় ‘গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে’ বলে এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে আটকের পর চোখ বেঁধে পুলিশ নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজনরা।
তাদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায়ও পুলিশ নুরুল নামে ওই ব্যক্তিকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা বলছে না। উপরন্তু তাকে আটক করা হয়নি বলে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার পুলিশ। তবে পুলিশ এই ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে।
বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দকাটি গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা আরশাদ আলী মোড়লের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম।
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে নুরুল ওরফে গিয়াসউদ্দিন (৪৫) একজন আওয়ামী লীগ কর্মী।  স্থানীয় ঘের ব্যবসায়ী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা একই গ্রামের সাত্তার মোড়ল ও তার শরিকদের সঙ্গে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ইতিপূর্বে নুরুলকে একটি হত্যা মামলায় জড়ানো হয়; যা আজো চলমান। এ ছাড়া বিভিন্নভাবে নুরুলকে ফাঁসানোর চেষ্টা  করে আসছিলেন সাত্তার মোড়লসহ তার পক্ষের লোকজন।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে কালিকাপুরের সাত্তার মোড়লের মালিকানাধীন শাওন ফিস-এর সামনে থেকে গোয়ালঘোসিয়া নদীর চরে নিজের মাছের ঘেরে কাজ করার সময় ‘গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে’ বলে নুরুলকে আটক করেন কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক হেকমত আলী, উপপরিদর্শক প্রকাশ ঘোষ, উপপরিদর্শক ইসরাফিল, উপপরিদর্শক মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক জাহিদ, উপপরিদর্শক সুজিত, কনস্টেবল সোহরাব ও ফিরোজসহ পুলিশের একটি দল। তারা নুরুলকে ঘেরের ঘর থেকে চোখে গামছা বেঁধে তুলে শাওন ফিস-এ নিয়ে আসে। সেখানে তাকে ওইসব পুলিশ সদস্য ব্যাপক নির্যাতন করে। নুরুলের চিৎকারে তার ছেলে সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ রনি (১৬) বাধা দেওয়ায় তাকে মারপিট করে মোবাইল কেড়ে নেন উপপরিদর্শক হেকমত আলী। পরে তাকে শতাধিক নারী-পুরুষের সামনে পুলিশের ভ্যানে তুলে কালিগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়। বিকেলে স্থানীয় বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজউদ্দিন ও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রশান্ত সরকারকে নিয়ে তিনি ও তার দুই ছেলেসহ স্বজনরা কালিগঞ্জ থানায় এলে নুরুলের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। কর্তব্যরত একজন পুলিশ সদস্য ভাতের টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে থানা লকআপে আবস্থানকারি নুরুলকে দেওয়ার চেষ্টা করলে উপপরিদর্শক হেকমত আলী তা কেড়ে নেন। একপর্যায়ে শীতের বস্ত্র ও ভাত দিতে না পেরে রাত ১১টার দিকে তারা বাড়ি ফেরেন।
মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন বলেন, ‘আমারা থানা থেকে চলে আসার পর পুলিশ নুরুলের চোখ বেঁধে ব্যাপক মারপিট করার পর অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে রাতভর বিভিন্ন স্থানে ঘোরায় বলে একাধিক মাধ্যমে জানতে পারি। সকালে আমরা থানায় গেলে পুলিশ নুরুলকে আটকের কথা অস্বীকার করে। এমনকি তাকে সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশ নিয়ে গেছে বলে জানানো হয়। সেখানে যোগাযোগ করা হলে নুরুল সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না বলে জানানো হয়।’
মনোয়ারা বেগম তার ছেলে নুরুলকে অস্ত্র উদ্ধারের নামে সাত্তার মোড়লের পরিকল্পনায় পুলিশ ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি তার ছেলেকে সুস্থ ও জীবন্ত অবস্থায় ফিরে পাওয়া ও নির্যাতনের ব্যাপারে কালিগঞ্জ থানার দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন নুরুল মোড়লের ছেলে রনি ও তার চাচাতো ভাই শামীম উজ্জামান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্য্যান শেখ রিয়াজউদ্দিন ও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রশান্ত সরকার জানান, প্রকাশ্য দিবালোকে বহু লোকের সামনে নির্যাতন করে ধরে নিয়ে যাওয়া নুরুল সম্পর্কে ‘পুলিশ জানে না’ বলার সুযোগ নেই।
বুধবার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে ঘের ব্যবসায়ী সাত্তার মোড়লের মোবাইল ফোনে রিং করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবীর দত্ত বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে সাংবাদিকদের কাছে নুরুলকে আটক ও নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন।

আরও পড়ুন