চৌগাছায় আগাম শিম চাষ বাড়ছে

আপডেট: 02:30:07 25/08/2017



img
img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর) : চৌগাছায় বেশ কয়েক বছর ধরে আগাম শিম চাষ করছে চাষিরা। ভালো ফলন ও বেশি দামে বিক্রি করতে পারায় লাভবান হচ্ছেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আগাম শিম চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি বছর বাড়তে শুরু করেছে আগাম শিম চাষির সংখ্যা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছরে শিম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪৩০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ৪৫০ হেক্টর জমিতে।
এই অঞ্চলে আগাম চাষের জন্য ‘রূপবান’ ও ‘ইফশা’ নামের দুটি জাতের শিম চাষ করা হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষের দিকে শিমের বীজ রোপণ করেন চাষিরা। সাধারণত বীজ রোপণের ৩৫-৪০ দিনের মধ্যে শিমের লতায় ফুল আসতে শুরু করে। অতি বর্ষা না হলে প্রায় পাঁচ মাস স্থায়ী হয় শিমের মাচা।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে ফুলে ফলে শোভা পাচ্ছে শিমের মাচা। নীল-বেগুনি রঙের শিম ক্ষেতগুলো শরতের আকাশের সঙ্গে মিতালী করে সৃষ্টি করেছে নয়নাভিরাম দৃশ্য। শিমের রুগ্ণ ফুল ছাড়িয়ে ফেলা, ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করা এবং কীট-পতঙ্গ প্রতিরোধসহ নানা কাজে সময় পার করছেন শিম চাষিরা।
কথা হয় পুড়াপাড়া গ্রামের শিম চাষি বাবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৮-৯ বছর ধরে শিম চাষ করে আসছি। প্রতি বছরই কম-বেশি লাভবান হচ্ছি। এবছরও বাজারে শিমের দাম ভালো। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০/৮৫ টাকা দরে। এ বছরে এক বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছি। এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৫-২০ হাজার টাকা। শিম বিক্রি করে এখন পর্যন্ত পেয়েছি ১০-১২ হাজার টাকা। অতি বর্ষা না হলে আশা করছি ৬০-৭০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারব।’
খড়িঞ্চা গ্রামের শুকুর আলী জানান, দশ কাঠা জমিতে এপর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ৮-৯ হাজার টাকা। তিনি বিক্রি করেছেন ৫-৬ হাজার টাকার শিম। তিনিও আশা করছেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার বেশি লাভ হবে।
নারায়ণপুরের আজিজুর, সিংহঝুলীর আব্দুল আলীম, খাইরুল ইসলাম, সাবের আলী, ফজের আলী, লিটনসহ আরো কয়েক চাষির মতও একই। তারা মনে করছেন, এবার শিম চাষে বেশ লাভ হবে।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা চাঁদ আলী জানান, এখানে আগাম শিম চাষ সম্ভাবনাময়। এখানকার মাটি শিম চাষের জন্য উপযোগী।
তিনি বলেন, ‘আগাম শিম চাষের অন্তরায় অতিরিক্ত বর্ষার পানি। বর্ষার পানি ক্ষেতে জমে থাকলে স্যাঁতসেঁতে মাটিতে শিম গাছের গোড়ায় নেমাটট (কৃমিজাতীয় পোকা) আক্রমণ করে। নেমাটটের আক্রমণ গাছের শেকড় নষ্ট করে দেয়। যে কারণে গাছ মারা যেতে পারে। তাছাড়া অতিরিক্ত বর্ষা হলে শিমের ফুল পচে কুশি গজানোর ক্ষমতা হারায়।’
শিমগাছের গোড়া চা রোগ দেখা দিলে ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে এই কর্মকর্তা জানান, এছাড়া পানিতে পরিমিত বরিক অ্যাসিড মিশিয়ে স্প্রে করলে উপকার পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন