চৌগাছায় কর্মসৃজন প্রকল্প হরিলুট, কৌশল নিয়ে ব্যস্ততা

আপডেট: 08:40:22 14/05/2018



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পের (৪০ দিনের) এক কোটি ৯০ লাখ ৭২ হাজার টাকার বড় অংশ সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধান অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী অনিক বিশ্বাস।
সংবাদ প্রকাশের পর পরবর্তী করণীয় নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে রোববার অনানুষ্ঠানিক মিটিংয়ে বসেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী অনিক বিশ্বাস, অফিস সহকারী মতিয়ার রহমান, সুজন দত্ত, মাস্টাররোলে কর্মরত রহমত আলীসহ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন মুকুল, স্বরূপদাহ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ার হোসেন ও সিংহঝুলি ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদলসহ কয়েকজন। সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করতে বিভিন্নজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয় কয়েক সাংবাদিককে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিটিং শেষে অনিক বিশ্বাসকে উৎফুল্ল দেখা যায়। মিটিংয়ে অনিক বিশ্বাস চেয়ারম্যানদের আশ্বস্ত করে বলেন, তার হাত অনেক উপরে। কারো কিছু হবে না। জনপ্রতিনিধিরা তার সঙ্গে থাকলে কেউ কিছু করতে পারবে না।
সূত্র জানায়, তিনি মিটিংয়ে এও বলেন, ‘আমাকে উচ্চ পর্যায় থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, এবিষয়ে কোনো তদন্ত হবে না। হলেও তদন্ত টিম যেন প্রকল্প সাইটে না যায় তার ব্যবস্থা করা হবে। ফলে কারো কিছুই হবে না। যেভাবে কাজ চলছে সেভাবে আপনারা চালিয়ে যান।’
এদিকে, সংবাদ প্রকাশের পর কয়েক ইউপি মেম্বার তাদের প্রকল্প সাইটে কয়েকজন করে শ্রমিক কাজে নিয়োজিত করেছেন। তবে সোমবারও সাইনবোর্ডগুলো প্রকল্প সাইটে স্থাপন করা হয়নি। সেগুলো সংশ্লিষ্ট ইউপি ভবনে সংরক্ষিত থাকতে দেখা গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী অনিক বিশ্বাসের নেতৃত্বে ৯৯টি প্রকল্পের প্রায় দুই কোটি টাকার বড় অংশ হরিলুটের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সোমবার সিংহঝুলি ইউপির জামালতা ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, পাঁচজন শ্রমিক পুকুরপাড়ে বাঁশঝাঁড়ের নিচে বসে গল্প করছেন। তারা কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিক বলে পরিচয় দেন। এখানে কতজন কাজ করার কথা জানতে চাইলে তারা ১৪ জনের কথা বলেন। তবে দুপুর ১২টার দিকেও তাদের কোনো কাজ করতে দেখা যায়নি।
একই ইউনিয়নের অন্য এক ইউপি মেম্বারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তার ওয়ার্ডে শ্রমিকরা কাজ করছেন। ১৪ জন শ্রমিকের স্থলে কয়েকজনকে দিয়ে কাজ করানোর অনুরোধ করলে তিনি জবাব দেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে। করাবো।’
সোমবার উপজেলার ৯৯টির মধ্যে স্বরূপদাহ, সুখপুকুরিয়া, ধুলিয়ানি, সিংহঝুলি, জগদীশপুর, পাতিবিলা, হাকিমপুর, নারায়ণপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত ১৮টি প্রকল্প সাইটে সরেজমিনে এবং ফোনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি প্রকল্পে নামকাওয়াস্তে কাজ হচ্ছে। অন্য জায়গাগুলোতে কোনো কাজ হচ্ছে না। অথচ অফিসিয়াল হিসেবে সোমবার পর্যন্ত ২২ দিন কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং ১৯ দিনের বিল জমা হয়েছে।

আরও পড়ুন