চৌগাছায় ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

আপডেট: 04:30:34 20/03/2019



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছার এবিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাজাহান কবীরের বিরুদ্ধে তার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দুপুরে শহরের ভাস্কর্য মেড়ে এই মানববন্ধন হয়। সেখানে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ করে। এসময় ১৫ জন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসম্বলিত একটি অভিযোগপত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলমের কাছে জমা দেন বিক্ষোভকারীরা।
অভিযোগ, উপজেলার এবিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাজান কবীর তারই স্কুলের অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ান। সেখানে তিনি প্রায়ই ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেওয়াসহ উত্ত্যক্ত করেন। মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ে অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রী একসঙ্গে প্রাইভেট পড়তে আসে। শিক্ষক সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে বাইরে থাকতে বলেন। এরপর রুমের মধ্যে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেন। আক্রান্ত ছাত্রী চিৎকার দিয়ে প্রধান শিক্ষককে ধাক্কা মেরে বাইরে চলে আসে। তখনই ঘটনা জানাজানি হয়। এসময় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ওই প্রধান শিক্ষককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এ ঘটনা ছাত্রীর অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মোবাইল ফোনে জানান। ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম রফিকুজ্জামানকে ঘটনাস্থলে পাঠান। এরআগেই সেখানে চৌগাছা থানা পুলিশের দুইজন এসআই উপস্থিত হন। ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই শিক্ষা কর্মকর্তা ছাত্রীদের কাছে জানতে চাইলে তারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করে।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেছেন বলে জানান শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান।
কয়েক ছাত্রী ও অভিভাবকের ভাষ্য, প্রধান শিক্ষকের এটি পুরনো দোষ। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই এ ধরনের অভিযোগ হয়ে আসছে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি বারবার রক্ষা পাচ্ছেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তার কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলম বলেন, ‘মঙ্গলবার মোবাইল ফোনে অভিযোগ পাই। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি করে দেওয়া হবে। তারা তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেবেন। দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শাহাজান কবীরের বক্তব্য জানা যায়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন