চৌগাছায় ডাকাতদের নৃশংসতা

আপডেট: 05:02:38 09/06/2018



img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় আশরাফ হোসেন আশা (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গলায় ফাঁস ও ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করেছে ডাকাতরা।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে দশটার দিকে চৌগাছা-বেনাপোল ভায়া কাবিলপুর সড়কের শাহাজাদপুর বিজিবি ক্যাম্পের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ওই সড়কে ৩০০ মিটারের মধ্যে বিজিবি ও পুলিশের দুটি টহল দল দায়িত্বে ছিল। এছাড়া নিকটবর্তী ক্যাম্পে উপস্থিতি ছিল বিজিবি সদস্যদের।
নিহত আশরাফ হোসেন আশা উপজেলার ধুলিয়ানি ইউনিয়নের ছোট কাবিলপুর গ্রামের আনছার আলীর ছেলে। পুলিশ লাশ তার উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের এক ছেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক; আরেক ছেলে বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত রয়েছেন।
নিহতের ছেলে ও ঘটনায় আহত জসিম উদ্দিন জানান, তিনি কিছুদিন আগে কাতার গিয়েছিলেন। সেখানে চুক্তিমতো কাজ না পাওয়ায় দেশে ফেরেন। শুক্রবার রাত দশটার দিকে তিনি চৌগাছায় পৌঁছান।
তিনি বলেন, ‘বাবা আশরাফ হোসেন মোটরসাইকেলে আমাকে নিতে চৌগাছা আসেন। আমরা বাপ-বেটা মোটরসাইকেলযোগে চৌগাছা থেকে ছোট কাবিলপুর যাচ্ছিলাম। ওই সড়কের শাহাজাদপুর বিজিবি ক্যাম্পের ১৫০ হাতের মধ্যে পৌঁছে বুঝতে পারি সড়কে একটি ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে; গাছে দড়ি বাঁধা। দড়িতে আটকে আমরা সড়কে পড়ে যাই। এসময় ৭-৮ জন ডাকাত আমাদের পেটাতে থাকে। ডাকাতদের একজন আমাদের মোটরসাইকেলটি (যশোর হ- ১৩-০৯৬৬) নিয়ে চৌগাছার দিকে চলে যায়। আমি দৌড়ে বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে ক্যাম্পের সদস্যদের কাছে সহায়তা চাই। কিন্তু ক্যাম্প থেকে কেউ বের না হয়ে আমাকে নানা প্রশ্ন করতে থাকে। ঘটনাস্থলে থাকা ট্রাকটি ক্যাম্পের সামনে দিয়ে চলে যেতে দেখে আমি বিজিবি সদস্যদের ট্রাকটি আটকাতে বলি। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’
সেখান থেকে হতাশ হয়ে জসিম ঘটনাস্থলে ফিরে দেখেন, তার বাবাকে ট্রাকটি চাপা দিয়ে চলে গেছে। তিনি তখন ঘটনাস্থলে কান্নাকাটি করতে থাকেন। এসময় টহলরত দশপাকিয়া ক্যাম্পের পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।
লাশটি শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শাহাজাদপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার আফজাল হোসেন বলেন, ‘ঘটনার সময় আমাদের একটি টহল দল মশ্মমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ছিল।’
ক্যাম্প থেকে এই স্কুলটির দূরত্ব মাত্র ৩০০ মিটার।
অন্যদিকে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ এই ৩০০ মিটারের মধ্যেই দশপাকিয়া পুলিশ ক্যাম্পের একটি দলও টহলে ছিল। মাত্র ৩০০ মিটারের মধ্যে পুলিশ ও বিজিবির দুটি টহল দল এবং বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা থাকলেও কীভাবে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে গেল, সেই প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।
একই স্থানে গত ১৪ মে পুলিশ পরিচয়ে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা তিন ডাকাতকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিল। পরে জানা যায়, সেই ডাকাতদলের সদস্যরা সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
ধুলিয়ানি ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, ‘আগের দিনও ধুলিয়ানি থেকে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে দুই যুবকের কাছ থেকে ওই এলাকায় একটি মোটরসাইকেল ছিনতাই হয়। রাত দশটার দিকেই পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা আমার বাড়ির সামনে দিয়ে ওই সড়কে টহল দিতে যান। অথচ এসময়ের মধ্যেই সেই সড়কে এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গেল।’
চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন