চৌগাছায় বৃদ্ধের বিরুদ্ধে শিশুর শ্লীলতাহানির অভিযোগ

আপডেট: 05:15:13 13/02/2018



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছায় প্রথম শ্রেণিপড়ুয়া এক শিশুকে (৭) শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল মুজিদ (৬৫) নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মেয়েটির বাবা।
চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন জানিয়েছেন, তিনি ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলেছেন। গায়ে হাত দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযুক্ত আব্দুল মুজিদ উপজেলার দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক এবং বর্ণি গ্রামের বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগে শিশুটির বাবা বলেন, ‘‘আমার মেয়ে এলাকার একটি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত আব্দুল মুজিদ প্রায়ই আমার বাড়িতে আসতো মেয়েটিকে পড়ানোর উদ্দেশ্যে। কিন্তু অসৎ চরিত্রের হওয়ায় আমি তার কাছে মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতে দিইনি। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার সময় আমি বাড়ি না থাকার সুযোগে ওই মাস্টার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে বলে, ‘তোমার মেয়েকে পড়াতে এসেছি’। আমার স্ত্রীর অসম্মতি সত্ত্বেও মুজিদ ‘আমি দুই-তিন মিনিট পড়া দেখিয়ে দিয়ে চলে যাব বলে বাচ্চার পড়ার ঘরে যায়।’’
‘‘এক পর্যায়ে বাবার বাড়ি থেকে আমার স্ত্রীর ফোন এলে সে বাইরে বের হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার মেয়ের চিৎকার শুনে ঘরে গিয়ে দেখে, আব্দুল মুজিদ ঘরে নেই এবং আমার মেয়ে কান্নাকাটি করছে। মেয়ের কাছে কান্নার কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘স্যার আমার গোপনাঙ্গে হাত দিয়েছে, আমি চিৎকার করলে স্যার আমার গলা চেপে ধরে এবং বলে এবিষয়ে তোর বাবা-মাকে বললে তোকে মেরে ফেলব’। পরে মুজিদ ঘর থেকে চলে যায়।’’
শিশুটির বাবা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তবে আব্দুল মুজিদ তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘তারা প্রাইভেট পড়াতে বলায় আমি ওই বাড়িতে যাই। পূর্ব বিরোধের জেরে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার মানহানি করা হচ্ছে। আমি কোর্টে এসেছি এবিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন বলেন, ‘আমি ভিকটিমের সাথে কথা বলেছি। গায়ে হাত দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। এবিষয়ে মামলা হবে। প্রক্রিয়া চলছে।’

আরও পড়ুন