চৌগাছায় স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিকার আত্মহত্যার চেষ্টা!

আপডেট: 04:47:04 15/04/2019



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছায় পরকীয়া প্রেমের জেরে তিন সন্তানের জনক আব্দুর রশিদ (৪০), তার স্ত্রী আছমা খাতুন (২৮) ও রশিদের প্রেমিকা দুই সন্তানের জননী ডলি খাতুন (৩০) কীটনাশক পানে একযোগে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
ডলির স্বামী আব্দুর রশিদের চাচাতোভাই ও  আপন শ্যালক।  তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী।
রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামের বাড়িতেই তারা কীটনাশক পান করেন। তিনজনই বর্তমানে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
হাসপাতালে তাদের স্বজনরা জানান, আব্দুর রশিদ প্রেম করে তার আপন চাচাতোবোন আছমা খাতুনকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির তিনটি সন্তান রয়েছে। এরপরও প্রবাসী আপন শ্যালক ও চাচাতোভাইয়ের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী ডলির সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া রয়েছে।  বিষয়টি জানাজানি হলে রশিদের স্ত্রী একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।  পরে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।  তখন আব্দুর রশিদ প্রতিজ্ঞা করেন আর এমন করবেন না। কিছুদিন পর আবারো সেই সম্পর্কে জড়ান।  সে যাত্রায়ও প্রতিজ্ঞা করে রেহাই পান রশিদ-ডলি।  লাগোয়া বাড়ি ও নিকটাত্মীয় বলেই বারবার এভাবে রেহাই পান তারা। তারপরও গোপনে সম্পর্ক রেখে আসছিলেন উভয়েই।
তারা বলছেন, রোববার পহেলা বৈশাখের দিন তাদের সম্পর্ক ধরা পড়ে গেলে এনিয়ে বাড়িতে ঝগড়াঝাটির একপর্যায়ে সন্ধ্যায় রশিদের স্ত্রী কীটনাশক পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে গ্রামের মানুষের সহানুভূতি পেতে রশিদও কীটনাশক পান করেন। স্থানীয়রা উভয়কে উদ্ধার করে চৌগাছা ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেন।  এ ঘটনায় গ্রামবাসী তিরস্কার করলে ডলিও কীটনাশক পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাকেও উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনজনই হাপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
রোববার রাত সাড়ে নয়টায় এ প্রতিবেদকের সামনেই ডলির মা ও রশিদের স্ত্রীর স্বজনরা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
ডলি কেনো কীটনাশক পান করেছেন জানতে চাইলে তার মা বলেন, 'রশিদের স্ত্রী-কন্যা মারপিট করেছে বলে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।'
আব্দুর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে তিনি একাজ করেছেন।  পরকীয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, সুস্থ হয়ে এর একটা বিহিত করবেন।
আছমা খাতুন বলেন, 'আমার মেয়েরা বড় হয়েছে।  তাদের বিয়ে দিতে হবে।  বারবার বলা সত্ত্বেও আমার স্বামী পরকীয়ার পথ থেকে সরে না আসায় হতাশা থেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করি।'
এদিকে, একইদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মৃত বকুল হোসেনের মেয়ে শারমিন খাতুন (১৪) গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।  তাকেও গ্রামবাসী উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা হাসপাতালে নেন।  সে জগদীশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
ঠিক কী কারণে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে তা জানা না গেলেও স্থানীয়রা বলছেন, প্রেমের কারণে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুঞ্জুরুল হাসান জানান, চারজনই বর্তমানে শংকামুক্ত আছেন।

আরও পড়ুন