চৌগাছা হাসপাতালে নার্সকে বেদম মার, ভাঙচুর

আপডেট: 08:50:46 06/06/2018



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছা উপজেলা হাসপাতালের স্টাফ নার্স সালমা খাতুনকে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় লাঠি দিয়ে বেদম মারপিট এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাংচুর করেছে রানা আলম নামে যুবক।
মারপিটকারী যুবক উপজেলার চৌগাছা সদর ইউনিয়নের মন্মথপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
আহত স্টাফ নার্স ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে দুইদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রঞ্জু খাতুন নামের একলামশিয়া (গর্ভপরবর্তী খিচুনি) রোগীর স্বামী রানা আলম হাসপাতালের স্টাফ নার্স সালমা খাতুনকে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় হঠাৎ চড়-থাপ্পড়ের পর লাঠিপেটা করে। ওই নারী কিছুদিন আগে সন্তান জন্মদান-পরবর্তী খিচুনিতে আক্রান্ত হয়ে চৌগাছা হাসপাতলে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখান থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতাল হয়ে খুলনা শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন। দুইদিন আগে আবারো একলামশিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটায় হাসপাতালের স্টাফ নার্স সালমা খাতুন দিনের দ্বিতীয় শিফটের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কাগজপত্র দেখার সময়ে হঠাৎ করেই ওই রোগীর স্বামী রানা আলম তাকে মারপিট করে। পরে হাসপাতাল থেকে চৌগাছা থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ এসে ওই ব্যক্তির নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ করে নিয়ে যায়।
চৌগাছা থানা পুলিশের একটি সূত্র বলছে, রানা আলম একাধিক মাদক মামলার আসামি।
হাসপাতালের স্টাফ নার্স সালমা খাতুন বলেন, ‘বুধবার দুপুরের শিফটে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে খাতাপত্র দেখছিলাম। এমন সময় পেছন থেকে এক ব্যক্তি হঠাৎ আমাকে চড়-থাপ্পড় দিতে থাকে। আমি মনে করেছিলাম হয়তো কোনো পাগলের আক্রমণের শিকার হয়েছি। কিন্তু চড়-থাপ্পড় মারতে মারতে সে লাঠি দিয়ে আমাকে মারতে থাকে। এমনকি আমি দৌড়ে পালাতে চাইলে শরীরের পোশাক টান দিয়ে খুলে ফেলে। এর পরও সে আমাকে লাঠিপেটা করে। আমি কোনো রকমে দৌড়ে তৃতীয়তলার মহিলা ওয়ার্ড থেকে নিচে নেমে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে আশ্রয় নিই। ওই ব্যক্তি সেখানেও আমার পিছু নেয়। পরে জরুরি বিভাগে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারী আমার সামনে ঢাল হলে ওই ব্যক্তি সেখানকার টেবিল-চেয়ার-গ্লাস ভাংচুর করে।’
সালমা বলেন, ‘আমি ওই রোগী সম্বন্ধে কিছুই জানতাম না। অকারণে ওই ব্যক্তি আমাকে এভাবে মারপিট করেছে।’
হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার ও নার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুন্নাহার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
সন্ধ্যায় চৌগাছা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুব্রতকুমার বাগচী বলেন, ‘আক্রান্ত স্টাফ নার্স ইনজুর্ড। তাকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।’
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আওরঙ্গজেব বলেন, ‘কোনো অপরাধ ছাড়াই আমাদের স্টাফ নার্স সালমাকে মারপিট করা হয়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. সেলিনা বেগম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আগামীকাল বৃহস্পতিবার মিটিংয়ে বসে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এবিষয়ে চৌগাছা থানায় ফোন করলে কনস্টেবল আলমগীর বলেন, ‘ডিউটি অফিসার বাসায়। আকিক স্যার (সেকেন্ড অফিসার) কোথায় আছে জানিনে। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’
আকিকুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন