চৌগাছা হাসপাতালে ‘অনিয়মের’ তদন্ত শুরু

আপডেট: 09:46:08 10/07/2018



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা অনিয়মের তদন্ত শুরু হয়েছে।

গত ৪ জুলাই চৌগাছার ডিভাইন সেন্টারে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিকালে চৌগাছা হাসপাতালের কয়েকজন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন কয়েক ব্যক্তি। সেসময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও গণশুনানির বিচারক দুদকের কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপকুমার রায়কে এক সপ্তাহের মধ্যে এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে রিপোর্ট দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

সে মোতাবেক যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ রায় ডেপুটি সিভিল সার্জন হারুন অর রশীদ এবং যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমদাদুল হক রাজুসহ তিনজনকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি করেন। কমিটি মঙ্গলবার সকাল দশটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত অভিযোগকারীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার ও লিখিত বক্তব্য নেন।

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন যাবৎ দেশের একটি মডেল উপজেলা হাসপাতাল হলেও সম্প্রতি নানা বিষয়ে রোগীরা অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সঠিক সময়ে ও নিয়মমতো রাউন্ডে না যাওয়া, রোগীদের সঙ্গে কোনো কোনো ডাক্তারের খারাপ ব্যবহার, হাসপাতালে ভর্তি রোগীকে প্রাইভেট চেম্বারে যেতে বাধ্য করা প্রভৃতি। এছাড়া অভিযোগ করা হয়, নির্ধারিত একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আলট্রাসোনোগ্রাফি এবং একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে প্যাথলজিক্যাল টেস্ট না করালে তা না দেখা বা ছুড়ে ফেলে দেওয়া। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আওরঙ্গজেব ডিউটিকালীন সময়ে হাসপাতালের সামনে নিজের চেম্বার ‘বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ রোগী দেখা, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিজের চেম্বারে যেতে বাধ্য করা, হাসপাতালের স্টোরে পর্যাপ্ত স্যালাইন, ইনজেকশনসহ বিভিন্ন ওষুধ থাকলেও কমিশনের জন্য ভর্তি রোগীদের বাইরে থেকে স্যালাইন ও ওষুধ কিনতে বাধ্য করা, প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট না থাকা সত্ত্বেও ‘বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ প্যাথলজিক্যাল টেস্ট করাতে বাধ্য করা, নিজের চেম্বার থেকে প্যাথলজিক্যাল টেস্ট না করা হলে হসপিটালে সেই রোগীকে না দেখা, মেডিকেল রি-প্রেজেন্টেটিভদের কাছ থেকে কমিশনের বিনিময়ে অখ্যাত (আরএসকে এবং অ্যালকো) কোম্পানির ওষুধ লেখা, শিশু বিশেষজ্ঞ না হয়েও মাত্র ১৫ দিনের একটি প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের নামের সঙ্গে ‘মেডিসিন, মা ও শিশু রোগে অভিজ্ঞ’ বিশেষণ লেখা, হসপিটালে রাউন্ডের বিষয়ে উদাসীনতা এবং ইচ্ছামতো রাউন্ডে যাওয়া ইত্যাদি। এছাড়াও তিনি ছয় বছর চৌগাছা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব পালনকালে নিজের গ্রামের বাড়ি উপজেলার বর্ণি-শাহাপুর-পুড়াপাড়া মাঠে বিপুল পরিমাণ জমি এবং চৌগাছা পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পয়েন্টে জমি কিনেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ডাক্তার সুব্রতকুমার বাগচির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ডিউটি সময়ের আধাঘণ্টা আগে কর্মস্থল ছেড়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে যান। 

ফার্মাসিস্ট মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হাসপাতালের সরকারি ওষুধ বিক্রি করে দেন। তিনি হাসপাতালের সামনে জমি কিনে চারতলা বাড়ি করেছেন। 

এছাড়া চৌগাছার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে দশটি নলকূপ স্থাপনের জন্য ২০১৪ সালে অর্থ বরাদ্দ করা হলেও সেগুলোর একটিও স্থাপন করা হয়নি। 

তদন্ত কমিটি অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযোগকারীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য শোনেন এবং অভিযোগকারীদের লিখিত বক্তব্য ও তথ্য প্রমাণাদি নেন।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের লিখিত বক্তব্য নেয়া হবে। তদন্ত শেষে রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ কর্মরতদের প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট না থাকলে সেটিকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। হাসপাতালে ডিউটির সময় কোনো চিকিৎসক প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন না।

আরও পড়ুন