ছাগল বাড়ছে, তবে ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়তে পারেননি ওরা

আপডেট: 02:49:05 04/04/2018



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের খানপুর ইউনিয়নের ফেদাইপুর গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা আছিরন বিবি। একমাত্র বিধবা মেয়ে কোহিনুর বেগমকে নিয়ে ভিক্ষা করেই চলতো তার সংসার। ভিক্ষুক হিসেবে গত বছর সরকারের পক্ষ থেকে তিনি একটি বকরি পেয়েছিলেন। মাস দেড়েক আগে আছিরন বিবির ছাগলের একটি বাচ্চা হয়েছে। তার ছাগলের সংখ্যা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে দুটিতে। কিন্তু ভিক্ষা করা ছাড়েননি আছিরন। এখনো সপ্তাহে দুই-তিন দিন গ্রামে বের হন তিনি। বাকি সময় তিনি ছাগলের যত্ন নেওয়ার কাজে ব্যস্ত থাকেন।
আসিরনের মতো ছাগল পেয়েছেন ইউনিয়নের ভরতপুর গ্রামের আকলিমা বেগম আকু। তার ছাগলেরও একটি বাচ্চা হয়েছে দুই মাস আগে। তারও ছাগলের সংখ্যা দুই।
ছাগল পেলেও তিনিও কিন্তু ভিক্ষা করা ছাড়েননি। আকলিমা বিধবা হয়েছেন বেশ আগে। স্বামী না থাকায় ভিক্ষা করেই চলে তার পেট। একটি মাত্র ছাগল পুষে পেট চলে না বলেই তিনি ভিক্ষা করেন বলে জানিয়েছেন।
ছাগল পেয়েছেন একই বাড়ির বাসিন্দা কুলসুমও। ভিক্ষুক হিসেবে তিনিও গতবছর পেয়েছিলেন ছাগলটি। আট মাসের মাথায় কুলসুমের ছাগলেরও দুটি বাচ্চা হয়েছে। সরকার ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষে কুলসুমকে ছাগল দিলেও তিনিও ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়েননি।
কুলসুমের স্বামী ইজ্জত আলী অসুস্থ। তিনি ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না বলেই অন্যের দুয়ারে হাত পাততে হয় কুলসুমকে। কুলসুম কিন্তু ভিক্ষা করতে চান না। তার ছাগলের সংখ্যা আরো বাড়লে এবং সরকার খাবার কিছু দিলে তিনি এই কাজ ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন।
কুলসুম বলেন, ‘ছাগল দেছে, খাবারতো কিছু দিইনি। স্বামী অসুস্থ। সে দশ দিন কাজ করলে ১৫ দিন তারে ওষুধ খাওয়ানো লাগে। কিছু সহযোগিতা করলি আর ছাগল পুষে বেশি হলি ভিক্ষা করা ছাড়ব।’
একই বক্তব্য আছিরন ও আকলিমার।
শুধু আছিরন, আকু আর কুলসুম নয়, খানপুর ইউনিয়নের এমন ২৯ জন ভিক্ষুক ছাগল পেয়েছিলেন। ইউনিয়নকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে এক বছর আগে যশোরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. মো. হুমায়ুন কবীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ছাগলগুলো বিতরণ করেন। একবছরের মাথায় এসে সবার ছাগলের নতুন বাচ্চা হয়ে এর সংখ্যা বাড়লেও ওদের কেউ ভিক্ষা করা ছেড়েছেন তেমনটি পাওয়া যায়নি। তবে সরকার যথাযথভাবে পুনর্বাসন করলে তারা ভিক্ষা করা ছাড়তে রাজি আছেন।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘মণিরামপুরকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে অনেক কাজ হয়েছে। কোনো ফান্ড না থাকায় এই কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে এই ব্যাপারে মনিটরিং চলছে। ফান্ড পেলে দ্রুত আবার এই কার্যক্রম চালু করা হবে।’