ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার এহসান ভারতে

আপডেট: 02:34:37 10/03/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের শিক্ষার্থী এহসান রফিককে চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নেওয়া হয়েছে। চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ে তার চোখের চিকিৎসা করানো হবে। তবে এসব কাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা করেনি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
এহসানের বাবা রফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে তাকে নিয়ে ভারতে রওনা হন। উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামে তাদের বাড়ি। রফিকুল ইসলাম কালীগঞ্জ শহীদ নুর আলী কলেজে শিক্ষকতা করেন। একই সঙ্গে কাজ করেন বৈশাখী টিভিতে।
ভারতে যাওয়ার পথে রফিকুল ইসলাম জানান, ছেলের চোখের চিকিৎসা দ্রুত করানো প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পাসপোর্ট আর ভিসা পেতে কিছুটা দেরি হয়েছে। চিকিৎসার সব খরচ তিনি নিজেই বহন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহায়তার আশ্বাস দিলেও পরে আর কোনো খোঁজ নেয়নি।
তিনি বলেন, ‘এহসান এখনো চোখে ঠিকমতো দেখতে পারে না, আলোর দিকেও তাকাতে পারে না। সমস্ত শরীরে এখনো ব্যথা , মাথায় আঘাতের কারণে ঠিকমতো মাথা উঁচু করে বসতে পারছেন না সে।’
ঢাবি প্রশাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে আর তারা কোনো খোঁজ নেয়নি। ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা কোনো সহায়তা করেনি। চিকিৎসার সব খরচ আমিই দিচ্ছি।’
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘এহসান রফিকের বাবাকে আমি বলেছি, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। কিন্তু তিনি কোনো যোগাযোগ করেননি। যখন রফিককে ঢাকা থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় তখনও তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। কিন্তু গতকাল ভারতে যাওয়ার আগে রফিকের বাবা আমাদের জানিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, ধার নেওয়া ক্যালকুলেটর ফেরত চাওয়ায় ৬ ফেব্রুয়ারি রাত দুইটা থেকে পরদিন বেলা আড়াইটা পর্যন্ত এহসানকে তিন দফা পেটান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে তার একটি চোখ মারাত্মক জখমসহ কপাল ও নাক ফেটে রক্ত বের হয়। ওই রাতে চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে ছাত্রলীগের হল শাখার সভাপতি তাহসান আহমেদের কক্ষে আটকে রাখা হয় এহসানকে। এই ঘটনা গণমাধ্যমে এলে ছাত্রলীগের কয়েক নেতাকর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ছাত্রলীগের সাত ক্যাডারকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুন