ছাত্রলীগ ক্যাডারদের নির্মমতা

আপডেট: 01:59:15 08/02/2018



img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : নিজের ক্যালকুলেটর ফেরত চাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে নির্দয়ভাবে মারধর করেছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। আহত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এহসান রফিক।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে রাতভর হল ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলের নির্দেশে তার ক্যাডাররা এহসানকে মারধর করে এবং তারই কক্ষে বুধবার দিনভর আটকে রাখা হয়। পরে সে বিকেলে হল থেকে পালিয়ে আসে।
আহত এহসান বৈশাখী টিভির ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলামের ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামে।
আহত এহসান জানান, মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ওমর ফারুক প্রায় তিনমাস আগে তার কাছ থেকে একটি ক্যালকুলেটর ধার নেয়। কিন্তু ক্যালকুলেটরটি বার বার চাওয়া সত্ত্বেও সে তা ফেরত দেয়নি। গত মঙ্গলবার রাতে ওমর ফারুকের কাছে এহসান ক্যালকুলেটর চেয়েছিল। এই অপরাধে ওমর ফারুক তাকে মারধর করে। সে হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আরিফের মাধ্যমে এহসানকে টিভি রুমে ডেকে নেয়। তখন টিভি রুমে উপস্থিত ছিলেন হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তানিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিম ইরতিজা শোভন ও আবু তাহের। সেখানে তারা এহসানকে 'শিবির' আখ্যা দিয়ে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চেক করে। কিন্তু তারা ফেসবুকে আপত্তিকর কিছুই পায়নি। একপর্যায়ে তাকে বেদম মারধর করে। তারা হল থেকে এহসানকে বের করে দেওয়ার ঘোষণাও দেয়।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, পরে ছাত্রলীগের হল শাখার সহ-সম্পাদক ওমর ফারুক ও রুহুল আমিন, সদস্য সামিউল ইসলাম সামী, আহসান উল্লাহ, উপ-সম্পাদক মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে রড, লাঠি সোটা দিয়ে বেদম প্রহার করা হয়। মারধরের এক পর্যায়ে এহসান জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্থা বেগতিক দেখে আরিফ রাত সাড়ে তিনটায় এহসানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিয়ে এসে হল শাখা সভাপতি তাহসান আহমেদের কক্ষে (১৬ নম্বর) আটকে রাখে। সেখানে তাকে ঘটনা প্রকাশ করলে কী কী সমস্যা হতে পারে, তা জানিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। সকালে এহসানের অবস্থা আবার খারাপের দিকে গেলে তাকে ফের ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে হলে এনে একই কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে হল থেকে পালিয়ে আসে এহসান।
খবর পেয়ে এহসানের বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
এ বিষয়ে আহতের বাবা রফিকুল ইসলাম চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলেন, 'এহসানের চোখের কর্ণিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।'
এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগ হল শাখার সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এহসানের ওপর নির্যাতনের কথা স্বীকার করেন। বলেন, 'যারা মারধর করেছে, তাদেরকে হল থেকে বের করে দিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তার নির্দেশে এহসানকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ সম্বন্ধে তিনি বলেন, 'এহসান আমার কর্মী ছিল। আমি কেনো তাকে মারার নির্দেশ দেবো?'
এহসানকে রুমে আটকে রাখার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। দাবি করেন, ঘটনা শোনার জন্য তাকে রুমে ডাকা হয়েছিল।
ঘটনার বিষয় অবহিত করা হলে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম জোয়ারর্দার বলেন, 'বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীর অভিভাবক এ বিষয়ে একটি অভিযোগপত্র দিয়েছে। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, 'বিষয়টি দেখবো।'
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, 'অভিযোগ সত্য হলে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আরও পড়ুন