ছাড়া পেলেন ফুল, পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা

আপডেট: 03:59:29 05/03/2018



img

শহিদুল ইসলাম দইচ : যশোরের পল্লী চিকিৎসক রাশেদ পারভেজ ফুল কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ায় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নেতারা। আজ সোমবার সকালে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে এই ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
পল্লী চিকিৎসক ফুলকে গত বৃহস্পতিবার ১৫ দিনের জেল দিয়েছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি শহরের সব ওষুধের দোকান বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করে। সাবেক ক্রিকেটার, ক্রীড়া লেখক ও আম্পায়ার ফুলকে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া হয়। পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি ‘দেখবেন’ বলে আশ্বাস দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার জালাল উদ্দিন সুবর্ণভূমিকে জানান, গতকাল রোববার অভিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ পারভেজ ফুলকে জামিন দেন। আজ সোমবার সকালে তিনি কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
শহরের পূর্ববারান্দীপাড়ার শাহ নেওয়াজ ও রবীন্দ্রনাথ সড়কের নুরুজ্জামান ডা. ফুলের রোগী। তারা সুবর্ণভূমিকে জানান, রাশেদ পারভেজ ফুল একজন ভালো ডাক্তার। তিনি রোগীদের কাছ থেকে কোনো ফিস নেন না। ওষুধের দামও কম রাখেন। তার চিকিৎসায় রোগীরা দ্রæত আরোগ্য লাভ করেন ও ওই দুই ব্যক্তির অভিমত।
অন্যদিকে, পল্লী ডাক্তারদের প্রাকটিসের বিষয়ে বিরূপ মতামতও আছে। শহরের সিটি কলেজপাড়ার নাহিদুল ইসলাম, পালবাড়ির জিয়া, ঘোপ জেল রোডের সোনিয়া বেগম এবং রাজারহাটের শাহনাজ পারভিনের সঙ্গে কথা হয় আজ সোমবার বেলা ১২টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের সামনে। এদের মত, অনেক ভুয়া ও হাতুড়ে ডাক্তার রোগী দেখছেন। নামের আগে ডাক্তার লেখা থাকায় অনেক রোগীই সার্টিফিকেটহীন ওই সব ডাক্তার নামধারীদের শরণাপন্ন হয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। কেউ কেউ অপচিকিৎসার শিকার হয়ে দীর্ঘমেয়াদে মাসুল গুণছেন।
বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির আসন্ন দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে পান্নু-সিরাজ পরিষদের প্যানেল লিডার এম শহিদুল ইসলাম চাকলাদার পান্নু সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘সামান্য ভুল বোঝাবুঝির জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত গত বৃহস্পতিবার পল্লী চিকিৎসক ফুলকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন। আন্দোলনের মাধ্যমে আজ সোমবার সকালে ফুলকে আমরা কারাগার থেকে মুক্ত করে এনেছি।’
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি একেএম জালাল উদ্দিন সুবর্ণভূমিকে বলেছিলেন, সারা দেশে হাজার হাজার পল্লী চিকিৎসক রয়েছেন। তারা রোগী দেখতে পারবেন না, সরকার তেমন কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি। অথচ ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘন ঘন অভিযান চালিয়ে ওষুধ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন।
জানতে চাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেএম আবু নওশাদ সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘যশোরে ভুয়া ডাক্তারদের অপচিকৎসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ অসহায় মানুষ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষ নিজেদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সুস্থ নিরাপদ রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
মুক্তি পাওয়া রাশেদ পারভেজ ফুল সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমি ফার্মাসিস্ট পাশ একজন গ্রাম্য ডাক্তার। আমার সকল ধরনের কাগজপত্র থাকা সত্তে¡ও ভ্রাম্যমাণ আদালত তা না দেখে আমাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।’
এ ব্যরপারে নির্বাহী ম্যাজিস্টেট কে এম আবু নওশাদ সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘রাশেদ পারভেজ ফুল যে একজন ডাক্তার তার সপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। সেই কারণে তাকে ২০০৯ সালের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫২ ধারায় ১৫ দিনে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।’

আরও পড়ুন