ছয় শিশুকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট: 03:11:44 02/05/2019



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর শহরের খড়কী এলাকার আমিনুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীকে অব্যাহত ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর এই অভিযোগের পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ভিকটিম শিশুদের পরিবার-সদস্যসহ এলাকার লোকজন বিক্ষোভ করেছেন।
স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার সকাল দশটার দিকে শিশুদের অভিভাবকসহ স্থানীয় লোকজন এলাকায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘দোষীকে গ্রেফতার করা হবে’ জানালে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী শিশুদের অভিভাবকরা জানান, খড়কী দক্ষিণপাড়া পীরবাড়ি এলাকার আব্দুল হালিমের ছেলে আমিনুর। তিনি মেয়েসন্তানের জনক এবং লম্পট প্রকৃতির। তিনি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয় শিশুকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে আসছেন। ওই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণিপড়ুয়া এসব শিশুকে চকলেট, আমসহ নানা খাবার খাইয়ে ও খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে তিনি এই অপকর্ম করে আসছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী আরা সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘গত ২৮ এপ্রিল স্কুলের পরীক্ষায় পাঁচ শিশু অনুপস্থিত ছিল। কেনো তারা অনুপস্থিত, সে বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি জানতে পারি। পরদিন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সাথে এ বিষয়ে বৈঠক করা হয়। সেখানে ভুক্তভোগী তিন মেয়ে আমাদের জানায়, আমিনুর তাদের খাবার কিনে দিয়ে ওইসব খারাপ কাজ করেছে।’
‘এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সেইদিনই আমাকে আহ্বায়ক করে স্কুল কমিটির সভাপতি শাহ মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ চারজনকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আজ সকালে আমাদের ওই কমিটির মিটিং চলছিল। ঠিক ওইসময় অভিভাবক, স্থানীয় লোকজন আর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।’
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মোহাম্মদ কামরুল হাসান সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমরা মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেবো। কিন্তু এরই মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আনারুল ইসলাম, শুকুর আলী, রেশমা বেগম, কামরুন নাহার, নুরুন্নাহার প্রমুখ ক্ষোভ প্রকাশ করে সুবর্ণভূমিকে বলেন, আমিনুর রহমানের তিনটি মেয়েসন্তান রয়েছে। কয়েকদিন পর সে নানা হবে। আর এমন সময়ে অন্যের বাচ্চা মেয়েদের ধর্ষণ করলো। এই নরপিশাচের প্রকাশ্যে ফাঁসি হওয়া উচিৎ।
খড়কী এলাকায় অবস্থানরত কোতয়ালী থানার এসআই শহিদুল ইসলাম সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও তাদের অভিভাবকদের থানায় নিয়ে যাচ্ছি।’
কিছু সময় পর কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর সমীরকুমার সরকার সুবর্ণভূমিকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসেছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আমিনুর রহমানকে ধরতে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে।

ছবি : তারিক হাসান বিপুল

আরও পড়ুন