জনপ্রতিনিধিদের বাড়তি নিরাপত্তা

আপডেট: 02:40:59 05/01/2017



img

আল-আমিন : সারা দেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জেলা পর্যায়ে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। গত ২ জানুয়ারি মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা এবং ফোনে মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারদের বিষয়টি অবহিত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বাড়ি, অফিস, কর্মস্থল ও নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগ এবং মতবিনিময়কালে পুলিশকে পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকে সর্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা যেসব বাড়িতে থাকেন ওইসব বাড়ির নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে পুলিশকে সর্বক্ষণিক সমন্বয় করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিনিধিরা কোনো জনবহুল এলাকায় গেলে ওই স্থানে আগে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে পুলিশের বিশেষ বার্তা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর দপ্তরের ডিআইজি (মিডিয়া) একেএম শহিদুর রহমান।
গত ৩১ ডিসেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন ওই এলাকার সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। ওই ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। এমপিদের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি উঠেছে।
বিশেষ বার্তা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জয়পুরহাট জেলার এসপি রশিদুল হাসান জানান, দেশের কোনো স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হলে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের পক্ষ থেকে আমাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়। গাইবান্ধা জেলায় সংসদ সদস্য হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের পক্ষ থেকে আমাদের মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা এবং মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। শুধু এমপি নন, সব জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য পুলিশ সর্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সংসদ সদস্য হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশে এমপিসহ সব জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এরপর পুলিশ হেড কোয়ার্টারের পক্ষ থেকে দেশের সব বিভাগীয় ডিআইজি এবং এসপিদের কাছে মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। জনপ্রতিনিধিরা যেন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা পান এজন্য মোবাইল ফোনে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
যশোর জেলার এসপি মো. আনিসুর রহমান জানান, দেশের কোনো স্থানে সংবেদনশীল কোনো ঘটনা ঘটলে আমাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়। এবারও হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অধিক জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ হেড কোয়ার্টারের অপারেশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রতিনিধিরা যে বাড়িতে থাকেন ওই বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ফাঁকফোকর রয়েছে কি-না তা পুলিশের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। ওই বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে পুলিশের সর্বক্ষণিক যেন যোগাযোগ থাকে এজন্য তাদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
সূত্র জানায়,  জনপ্রতিনিধিরা যেসব স্থান অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন ওই অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের জন্য বলা হয়েছে। তারা যখন ওই অফিসে যাবেন তখন তারা যেন পুলিশকে বিষয়টি আগে থেকে অবহিত করেন তা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে পুলিশকে পোশাকে এবং সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
পুলিশ হেড কোয়ার্টার সূত্রে জানা গেছে, যখন তারা তাদের নিজ এলাকায় জনসংযোগ করতে যাবেন তখন তারা যেন ওই এলাকায় যাওয়ার আগেই বিষয়টি পুলিশকে জানান, এজন্য পুলিশকে ওই বিষয়টি জনপ্রতিনিধিদের জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, এ ছাড়াও যে সব জনপ্রতিনিধি ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে ফ্ল্যাটে বসবাস করেন ওইসব জনপ্রতিনিধিদের নামের তালিকা তৈরি এবং ওই ফ্ল্যাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক রয়েছে কিনা তা দেখতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কারো সঙ্গে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বিরোধ থাকলে ওই সব ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য রাখার জন্য বলা হয়েছে।
এ নিয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার ওসি মো. আকতার মুর্শেদ বলেন, 'এমপি হত্যাকাণ্ডের পর জেলার এসপি আমাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টা পোশাকে এবং সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালনের জন্য বলা হয়েছে।'
চট্টগ্রামের হাটহাজারি থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গির জানান, জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে।
সূত্র : মানবজমিন

আরও পড়ুন